মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নিউ হোপ এগ্রোটেক বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি শিল্প কারখানার ভেতর থেকে বিল্লাল হোসেন (৫৫) নামের শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের শরীরে একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং দুটি কান কাটা থাকায় এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় অবস্থিত মাছ ও পশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটির পিপি স্টোর রুমে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বিল্লাল হোসেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে কারখানাটিতে কর্মরত ছিলেন এবং সেখানেই বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বিল্লাল হোসেন নাইট শিফটে দায়িত্বে ছিলেন। রোববার ভোরে কারখানার পিপি স্টোর রুমের ভেতরে চটের বস্তার স্তূপের মধ্যে তার রক্তমাখা মরদেহ দেখতে পান নিরাপত্তাকর্মীরা।
ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা দাবি করে কারখানার নিরাপত্তা কর্মীরা জানায়, রাতের শেষভাগে অসাবধানতাবশত চটের বস্তার স্তূপে ঘুমানোর সময় হয়তো কোনো গাড়ি তার ওপর উঠে যায়। তবে এ দাবি মানতে নারাজ নিহতের পরিবার। তাদের অভিযোগ বিল্লালকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী আঁখি আক্তার বলেন, ‘রোববার সকাল ছয়টায় ফোন করে জানানো হয় আমার স্বামী এক্সিডেন্ট করেছেন। এসে দেখি সারা শরীরে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন, দুই কান কাটা। এ মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। আমরা থানায় মামলা করব।’
নিহতের জামাতা আবু মুসা বলেন, ‘পুরো কারখানায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও আমাদের ফুটেজ দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। নানা তালবাহানা করে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে দুই লাখ টাকায় বিষয়টি রফা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কারখানাটিতে গেলে কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকর্তা সালাউদ্দিন সাগরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড তা বের করতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।’
কেকে/এআই