প্রতি ডিমে উৎপাদন ব্যয় ১০ টাকা, বিক্রি ৬ টাকা : মাসে লোকসান ৫০০ কোটি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন
উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা করে ডিমের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ ও পোলট্রি খামারিদের ডিজিটাল ডেটাবেইস চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)।
পোল্ট্রি খামারিদের সংগঠনটি বলছে, ‘খামার পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন ব্যয় ১০ টাকা হলেও এখন বিক্রয়মূল্য ছয় টাকা। ফলে প্রতিটি ডিমে চার টাকা লোকসান হচ্ছে। এভাবে প্রতি মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন দেশের তৃণমূল পর্যায়ের পোল্ট্রি খামারিরা। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ের পোল্ট্রি খামারিরা টিকে থাকবে না, সব ঝরে পড়বে। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে পুরো পোল্ট্রি খাত চলে যাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অধীনে। ফলে, সহজলভ্য প্রোটিনের বড় উৎস ডিম কিনে খেতে হবে বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ দামে। কর্মসংস্থান হারাবে লাখ লাখ মানুষ।’
আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর আহমেদ চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন বিপিআইএর সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনের পরে মানববন্ধন করে পোলট্রি খামারিরা
এর পূর্বে, একই দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন পোল্ট্রি খামারিরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘দেশের হাজার হাজার ডিম উৎপাদনকারী খামারি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন তারা লোকসান গুনছেন, ক্রমে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন, অনেকেই লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের ডিম উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
পোল্ট্রি খাতে যৌক্তিক মূল্য (ফেয়ার প্রাইস) নির্ধারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উৎপাদন খরচ বিবেচনা করে এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করতে হবে, যাতে খামারিরা অন্তত ন্যায্য মুনাফা পান এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারেন।’
সারা দেশের পোল্ট্রি খামারিদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির আহ্বান জানিয়ে মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সারা দেশের খামারিদের একটি জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ চালু হলে প্রকৃত খামারিদের সহজে শনাক্ত করা যাবে এবং খামারিদের ঝরে পড়া সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতি বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও স্বল্পসুদে ঋণ সরাসরি প্রকৃত খামারিদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএর মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, ‘খামারিদের ৭০-৮০ শতাংশ ব্যয় চলে যায় খাদ্যের পেছনে। তার সঙ্গে খাদ্যের উপকরণ আমদানিতে আছে ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর; আমরা এটা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছি। প্রতিবেশী দেশগুলোতে কাঁচামালে এমন কর নেই।’
তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ের অভাবে পোল্ট্রি খাতে সুফল পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে জাতীয় পোল্ট্রি বোর্ড গঠন করা হোক। উৎপাদন খরচ কমাতে পারলে আগামী এক দশকে পোল্ট্রি খাত সফল শিল্প খাতে পরিণত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ অঞ্জন মজুমদার বলেন, ‘যখন খামারিরা লোকসান দিয়ে সাড়ে চার টাকায় ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হন, তখনো ভোক্তাকে সাড়ে ১০ টাকায় ডিম কিনতে হয়। ডিম পচনশীল পণ্য হওয়ায় খামারিরা তা মজুত করতে পারেন না, আর এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মধস্থতাকারীরা মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিপিআইএর উপদেষ্টা এনসি বনিক, সহসভাপতি মেজবাউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক সফিকুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গাজী নূর হোসেন, সদস্য মুন্না মুন্সী প্রমুখ।