হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাতভর ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে ইরানের সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও উপকূলরক্ষী ঘাঁটি, আশ্রয়কেন্দ্র এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে ব্যবহৃত ইরানি সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের অভ্যন্তরে আরও একটি লক্ষ্যবস্তু, বিশেষ করে একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করছে।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ৩টা ১০ মিনিটে দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর শহরে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের ওমিদিয়া শহরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, ওই হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ওপর অবরোধ পুনর্বহাল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে জাহাজগুলোর কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র অর্থ আদায় করবে বলেও জানান তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দায়িত্ব পালন করবে।”
এদিকে এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
কেকে/ এমএস