অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোর সাথে বাণিজ্য সীমিত করার নতুন পদক্ষেপ নিতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই পদক্ষেপের পক্ষে যথেষ্ট সমর্থন আছে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা করতে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার (১৩ জুলাই) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে মিলিত হয়েছিলেন।
‘পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি যে সত্যিই অসহনীয়, সে বিষয়ে সকলেই একমত,’ একটি বৈঠকের শুরুতে বলেছেন ইইউর পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কায়া কাল্লাস।
পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, তা প্রকৃতপক্ষে দ্বি-রাষ্ট্র (ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সমস্যা) সমাধানকে কার্যকর হওয়া ক্রমশ অসম্ভব করে তুলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন ইইউ কূটনীতিক ও একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এই আলোচনাগুলো ইউরোপীয় কমিশনের একটি গোপনীয় নথির ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে, যেখানে তিনটি ভিন্ন বিকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে – আমদানি লাইসেন্সিং ব্যবস্থা, প্রতিরোধমূলক শুল্ক অথবা নিষেধাজ্ঞা।’
এর ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে বিভাজনের কারণে, বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিষয়ে, ইইউ মধ্যপ্রাচ্য নীতি সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছে।
কিন্তু অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং বসতি সম্প্রসারণকারী ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর-ডানপন্থি সরকারের প্রতি হতাশার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অবৈধ বসতিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সদস্য সরকারগুলোর পক্ষ থেকে চাপ বেড়েছে।
মে মাসে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গুরুতর ও পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইইউ চারটি সংস্থা এবং তিনজন ব্যক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসের একটি পরামর্শমূলক মতামতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বলেছে যে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও বসতিগুলোর ওপর ইসরাইলের দখলদারিত্ব অবৈধ এবং রাষ্ট্রগুলোর উচিত এমন বাণিজ্য বা বিনিয়োগ সম্পর্ক রোধ করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া যা এই পরিস্থিতি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
সূত্র : আল জাজিরা, রয়টার্স
কেকে/এমএ