বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত মো. রায়হান হোসেনের বাবা মো. মোজাম্মেল হক। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং মাওলানা আব্দুল হালিম।
এছাড়া ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, নূরুল ইসলাম বুলবুল, মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
অধিবেশনে কেন্দ্রের ষাণ্মাসিক কার্যক্রম পর্যালোচনা, জেলা সংগঠনের সেটআপ অনুমোদন, বিভিন্ন ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ সময় কেন্দ্রীয় সভাপতি ২০২৬ সেশনের কার্যকরী পরিষদের উপনির্বাচনে নির্বাচিত ১২ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। পাশাপাশি কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের পরামর্শে একজন সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে নবনির্বাচিত ও নবমনোনীত সদস্যদের শপথ পাঠ করানো হয়।
সমাপনী বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ, আদর্শিক ও দায়িত্বশীল জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। তিনি সদস্যদের পড়াশোনাকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার পাশাপাশি নৈতিকতা, তাকওয়া ও আমানতদারিতা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং ছাত্রসমাজকে সততা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সভাপতির সমাপনী বক্তব্য এবং দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের সমাপ্তি হয়।
কেকে/ এমএস