মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: ২৪ ঘণ্টায় হামে দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০১৯      মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে ৩ বাংলাদেশি নিহত      বাগেরহাটে বসতঘরে একই পরিবারের তিনজনের লাশ      জবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ক্যাম্পাসে ‍উত্তেজনা      ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া      পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় জোর প্রধানমন্ত্রীর      ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ      
রাজনীতি
‘জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা’ বাতিলে সিপিবির প্রতিবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

‘জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ ও ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা জনস্বাস্থ্য অধিকার ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ওষুধের মূল্য নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান নীতিগত ভিত্তি। সরকার জনস্বাস্থ্যের চেয়ে ওষুধ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা বাতিল করেছে।’
 
‘ওষুধ কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত একটি মৌলিক প্রয়োজনীয় দ্রব্য। তাই, এর মূল্য সম্পূর্ণভাবে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের চিকিৎসা গ্রহণের অধিকার আরও সংকুচিত হবে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জীবনরক্ষাকারী ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দায়িত্ব থেকে সরে আসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি ক্ষমতাসীন সরকারের আরেকটি গণবিরোধী পদক্ষেপ।’

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের বিকাশে ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধ নীতি একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। সেই নীতির মূল দর্শন ছিল জনগণের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আজ সেই নীতিগত ভিত্তি থেকে সরকার সরে আসতে চাচ্ছে। এ বছর জানুয়ারিতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণ করে ২৯৫টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এসব ওষুধের সরকার-নির্ধারিত মূল্য নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা এবং অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মূল্য নির্ধারণের একটি পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছিল। সরকার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও বাজারনির্ভর করার পথে এগোচ্ছে।’

‘সরকার যদি পূর্ববর্তী তালিকা বা মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি খুঁজে পেয়ে থাকে, তবে তা বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্যবিদ, ওষুধ প্রশাসন, রোগী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধন করতে পারত। কিন্তু কোনো গ্রহণযোগ্য জনপরামর্শ ছাড়াই সম্পূর্ণ নীতিমালা বাতিলের মাধ্যমে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।’

নেতৃবৃন্দ দ্রুত ‘জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা’ ও ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি’ পুনর্বহাল, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শুরু এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওষুধের মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

‘জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অধিকার নিয়ে কোনো পরীক্ষানিরীক্ষা চলতে পারে না। জনস্বার্থবিরোধী এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করে মানুষের চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  সিপিবি   অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা   ওষুধের মূল্য নির্ধারণ   ওষুধ নীতিমালা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close