সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ফার্মেসি বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ২১০নং কক্ষ মিলনায়তনে ‘বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসি স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন (জিবিপিএসএ)’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফার্মেসি বিভাগের অধিকর্তা ড. রুজিনা পারুল।
অনুভূতি প্রকাশ করে নবীন শিক্ষার্থী সিজদা আক্তার বলেন, ‘আজকে আমাদের সবার মনে কিছুটা ভয়, সংকোচ কাজ করলেও এর থেকে বেশি স্বপ্ন, আনন্দ আর উপলব্ধি কাজ করেছে। শুরুতে নতুন জায়গা, নতুন মানুষদের সাথে কিছুটা উদ্বীগ্নতা অনুভব হয়। কিন্তু সুন্দর পরিবেশ আর সবার হাসিমুখ দেখে আমার সব ভয় এক মুহূর্তেই কেটে গেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু ডিগ্রীর জন্য আসিনি এসেছি নিজেদের স্বপ্নকে সত্যি করতে, শিখতে এবং ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে।’
জিবিপিএসএ—এর সহ-সভাপতি সায়েম বলেন, ‘ফার্মেসি শব্দটা ছোট হলেও এর পরিধি বিশাল। যোগ্য ফার্মাসিস্ট তৈরির জন্য প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা। একাডেমিকের পাশাপাশি ওয়ার্কশপ, সেমিনার আয়োজন আমাদের ক্যারিয়ার ডেভলপমেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনেক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে। জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে পড়াশোনাই মূখ্য বিষয় না এর পাশাপাশি আমাদের সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকা প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদ ডিন ড. মো. ফুয়াদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অগ্রযাত্রা দীর্ঘদিনের। দেশের শিক্ষা, গবেষণা, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং স্বাস্থ্যখাতে ফার্মেসি বিভাগের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। এই অর্জনের অংশীদার হিসেবে নতুন শিক্ষার্থীদের যাত্রা শুরু হলো এতে তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি বেড়ে গেল। আগামী দিনের স্বাস্থ্যখাতে গবির ফার্মাসিস্টরা ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন দক্ষ ফার্মাসিস্ট তৈরির জন্য প্রয়োজন নলেজ, রিসার্চ, ইনোভেশন এবং এপ্লিকেশন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত কেবল নলেজ এবং এপ্লিকেশনের মধ্যে বিদ্যমান। তবে ফার্মেসি গ্রাজুয়েটদের রিসার্চ এবং ইনোভেশনের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য নলেজের পাশাপাশি রিসার্চ এবং ইনোভেশনের প্রয়োজন রয়েছে।’
সমাপনী বক্তব্যে নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ফার্মেসি বিভাগের অধিকর্তা ড. রুজিনা পারুল বলেন, ফার্মেসি বিভাগে পড়াশোনার মাধ্যমে তোমরা নিজেদের সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। শিক্ষকদের কাছে শেখার আগ্রহ, প্রশ্ন করা, গবেষণা সমূহ এবং অন্যান্য বিষয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। মনে রাখবে ভালো সিজিপিএ গুরুত্বপূর্ণ তবে জীবনের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নির্ভর করে সততা, শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, মানবিকতা এবং কাজের প্রতি মানবিক নিষ্ঠার মাধ্যমে। জ্ঞান অর্জন করে দক্ষ ফার্মাসিস্ট হয়ে পরিবার, বিভাগ এবং দেশে জন্য সম্মান বয়ে আনবে বলে আশাকরি।
অনুষ্ঠানে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় ফার্মেসি বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও জিবিপিএসএ এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/ এমএস