রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জোর বিএনপির      হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, সর্বমোট প্রাণহানি ১০১৯      শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার      রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর      যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে: মীর শাহে আলম      দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই: ডা. শফিকুর রহমান      ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী      
প্রিয় ক্যাম্পাস
হাবিপ্রবিতে জুলাই শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
হাবিপ্রবি, প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) জুলাই শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-১-এ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খান। 

ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এসএম এমদাদুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদ হাবিপ্রবি শাখার সভাপতি প্রফেসর ড. মো. হাসানুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. মহিদুল হাসান ও প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. আবুল কালাম।

সভায় মো. এনামউল্ল্যা জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘২৪-এ আমরা দেশীয় ফ্যাসিবাদ ও  বহির্বিশ্বের ম্যাকানিজম থেকে মুক্তি পেয়েছি। ‘২৪’-এর চেতনা অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত। ‘৭১-এ আমরা ভৌগোলিক সীমানা পেয়েছি। কিন্তু, জুলাইয়ে আমরা অনেক কিছুই অর্জন করেছি-শিক্ষা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে আমরা স্বাধীন হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে একটি সশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে তরুণ যুবকরা জুলাইয়ে দ্বিতীয় বার বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করে। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে যখন আমরা অতিষ্ঠ, ঠিক তখনই তরুণ-যুবকদের সাথে আপামর জনতা ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিঃস্বার্থভাবে দেশের জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করেছেন। দুইজন শহীদ রাহুল ও রুদ্রের বাবা-মা আজ আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন, তাই আমরা গর্ববোধ করছি। জুলাই আন্দোলনে বিভিন্নভাবে অংশগ্রহণ ও আন্দোলনকারীদের সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মো. এনামউল্ল্যা বলেন, ‘নিজেদের জীবন বাজী রেখে জুলাই গণঅভ্যূত্থানে তোমাদের অংশগ্রহণে আমরা চিরকৃতজ্ঞ। তাই, এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্যও তোমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের অনেক সুযোগ রয়েছে সেটাকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারব। দেশকে বাঁচাতে হলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। ব্যক্তি জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে, আসুন সবাই মিলে দেশ গড়ি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গর্বিত এ কারণে যে, দিনাজপুরের কৃতি সন্তান পুতুলের সন্তান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তাই, নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য তার নেতৃত্বে আমাদের সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি যত্নবান হতে হবে। সর্বোপরি এ বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চতর শিখরে পৌঁছাতে হলে আমাদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব ও কর্তব্যে পালন করা অত্যন্ত জরুরি।’

মো. নওশের ওয়ান বলেন, ‘একজন জুলাইযোদ্ধা হিসেবে আমাকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় আল্লাহর  নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। জুলাই ‘২৪ আন্দোলন চলাকালে সবসময় সকলের সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেছি।’

মুর্হুমুহু গুলি ও টিয়ারসেল উপেক্ষা করে সেই উত্তাল দিনগুলির লোমহর্ষক ঘটনাগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি অর্নবের শরীরে পুলিশের রাবার বুলেটের আঘাতের কথা উল্লেখ করেন তিনি। 

মো. নওশের ওয়ান আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এ দেশে আর কোন দিন স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকারের উত্থান হবে না।’

একইসাথে তিনি শহীদ রুদ্র ও শহীদ রাহুলের পরিবারকে ধন্যবাদ জানান।  

মো. মাসুদুল হাসান খান বলেন, ‘২৪’-এর জুলাই আন্দোলন কয়েক দিনে গড়ে উঠেনি। পিলখানায় বিডিআর হত্যাকান্তের মধ্য দিয়ে এর বীজ বপন হয়। আমাদের সকলকে জুলাই ২৪’-এর চেতনাকে ধারণ করতে হবে।’

শহীদ রাহুল ও রুদ্র সেনের বাবা মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি সন্তান আপনার সন্তান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় আপনাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’

শহীদ রাহুলের মোসলেম উদ্দিন দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার জন্য কাজ করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 

শহীদ রুদ্র সেনের বাবা সুবির সেন শহীদদের আদর্শ ও চেতনা ধারণের জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করেন।

ফসল শারীরতত্ত্ব ও পরিবেশ বিভাগের প্রফেসর ড. মো. হাফিজুর রহমান হাফিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রফেসর ড. আবুল কালাম, হাবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. মহিদুল হাসান ও সভাপতি প্রফেসর ড. মো. হাসানুজ্জামান, প্রফেসর ড. মো. মনিরুজ্জামান বাহাদুর, অফিসার্স ফোরামের ড. মো. নূর-এ-আলম সরকার, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের একেএম ইমতিয়াজ ফারুক, কর্মচারী মো. নুরুল আমিন।

জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও জুলাই চেতনা ও তাৎপর্যের উপর বক্তব্য দেন হাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি মো. এহসানুল কবির অর্নব ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  হাবিপ্রবি   জুলাই শহীদদের স্মরণ   আলোচনা সভা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

প্রিয় ক্যাম্পাস- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close