ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ক্যাম্পাসকে ধূমপানমুক্ত ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধসহ চার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্তিমা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন রক্তিমার সদস্যরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সরকারের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৫ (সংশোধন)’-এর ধারা ৬ খ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা নিষিদ্ধ। বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় হুমকি হলো ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার। এছাড়াও ক্যাম্পাস এলাকায় পার্থেনিয়াম আগাছার বিস্তার শিক্ষার্থী ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।’
এ সময় উপাচার্যের কাছে চার দাবি জানান রক্তিমার সদস্যরা৷দাবিগুলো হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা; ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা; ক্যাম্পাসে দৃশ্যমান স্থানে নো স্মোকিং জোন সাইনবোর্ড স্থাপন করা এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা পার্থেনিয়াম আগাছা দ্রুত নিধন ও নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
রক্তিমার সভাপতি সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধূমপান ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু হওয়া উচিত। ধূমপান কেবল ধূমপায়ীর জন্য নয়, বরং আশেপাশের মানুষদের জন্যও সমানভাবে ক্ষতিকর। প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ফলে অনেকেই অনিচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন, যা ক্যানসার ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হতে পারে।’
‘অন্যদিকে, পার্থেনিয়াম আগাছা ত্বকের রোগ, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে এবং পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই আমরা এগুলোর বন্ধের দাবি জানিয়েছি। আশা করি, প্রশাসন এগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন।’
স্মারকলিপি নিয়ে একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ‘তাদের দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে খুবই প্রাসঙ্গিক। আমরাও ইতোমধ্যে চেষ্টা করছি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিষ্কার রাখার। প্রশাসনের কার্যক্রমের একটি অংশ তারা দাবি হিসেবে নিয়ে এসেছে। আমি মনে করি, এটি সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এই কাজগুলোকে আমরা সামনের দিকে সুন্দরভাবে করতে পারবো।’
কেকে/এমএ