‘জুলাই ৩৬ গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের তার মাকে লেখা একটি চিঠির ফলক উন্মোচন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আনাস হলে এ চিঠির ফলক উন্মোচন করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির ১১৬ নম্বর কক্ষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
ফলক উন্মোচন ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী। এ সময় শহীদ আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ ও নানা সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে ‘জুলাই-আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য-সচিব ছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। ক-বিভাগের (প্লে থেকে চতুর্থ শ্রেণি) বিষয় ছিল ‘বুলেটের সামনে আমাদের আবু সাঈদ’; খ-বিভাগের (পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণি) বিষয় ছিল ‘পানি লাগবে, পানি...’; এবং গ-বিভাগের (অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি) বিষয় ছিল ‘জুলাই বিপ্লবে পুলিশের নৃশংসতা’।
ফলক উন্মোচন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এই ফলকের মাধ্যমে শহীদ আনাস হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা তাঁর চিঠি পড়ে জানতে পারবে, একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে আনাস কীভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনাসের দেশপ্রেম আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যতদিন দায়িত্বে থাকবে, ততদিন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এসব কর্মসূচি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হবে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আনাসের চিঠিতে প্রতিফলিত দেশপ্রেম ও আদর্শ ধারণ করতে পারলেই শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান আনাস তার মাকে একটি চিঠি লিখে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার ভাড়া বাসা থেকে বের হন। পরে রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন।
কেকে/এমএস