টেক্সট ডুপ্লিকেশন, গুরুতর তথ্যগত ত্রুটি, পিয়ার-রিভিউ ও প্রকাশনা-প্রক্রিয়ায় অনিয়মের ইঙ্গিত, অতিরিক্ত ও অপ্রাসঙ্গিক সাইটেশন ব্যবহারসহ নানা অসংগতির অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৩টি গবেষণাপত্র বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন জার্নাল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অন্য একটি নিবন্ধে ফলাফল উপস্থাপন ও গবেষণার দাবিতে ত্রুটি ধরা পড়ায় মূল সংস্করণ প্রত্যাহার করে পরবর্তীতে সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী রিট্রাকশন ওয়াচ ডাটাবেজে সম্প্রতি অনুসন্ধানে এ তালিকা পাওয়া যায়। তালিকায় ইবির গণিত বিভাগ, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষকদের নাম রয়েছে।
তালিকার তথ্যানুযায়ী, ১৪টি রেকর্ডের প্রকাশিত অ্যাফিলিয়েশন অনুযায়ী প্রকাশনা-প্রক্রিয়ায় ম্যানুপুলেশনের অভিযোগে প্রত্যাহারের সংখ্যা গণিত বিভাগে সর্বোচ্চ। চারটি গবেষণাপত্রের মধ্যে দুটি অধ্যাপক ড. মো. সজিব আলীর এবং দুটি অধ্যাপক ড. এস. এম. মোস্তফা কামালের। এছাড়া ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের অপ্রাসঙ্গিক/অতিরিক্ত সাইটেশনের জন্য সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান এবং যৌথভাবে সাবেক শিক্ষার্থী মো. আলমগীর হোসেন ও মো. আতিকুর রহমানের একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহৃত হয়েছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক প্রিপ্রিন্ট নীতিমালার কারণে অধ্যাপক ড. দীপক কুমার পালের একটি প্রিপ্রিন্ট অপসারণ করা হয়।
এ ছাড়া তালিকায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশ্বের ২ শতাংশ সেরা গবেষকের মধ্যে থাকা অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমানের নামও রয়েছে। তাঁর দুটি গবেষণাপত্রের একটি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং অন্যটি সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের গবেষক অধ্যাপক ড. মো. সাদেক আলীর দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশনা-প্রক্রিয়ায় ম্যানুপুলেশন ও পিয়ার-রিভিউ-সংক্রান্ত অভিযোগে প্রত্যাহৃত হয়েছে। এ ছাড়া ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল আলমের একটি গবেষণাপত্রের প্রিপ্রিন্ট প্রত্যাহৃত হয়েছে, যার কারণ প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শাহেদুর রহমান ও আসিফ ইকবালের একটি গবেষণাপত্রও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হলে মূল নিবন্ধে রিট্রাকশন নোটিশ যুক্ত হয়। জার্নাল কর্তৃপক্ষ পেপারটি কেন প্রত্যাহার করা হলো, তার কারণ উল্লেখ করে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ করে, যা স্কোপাস বা পাবমেডের মতো আন্তর্জাতিক ইনডেক্সে স্থায়ীভাবে থেকে যায়। এতে ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান পাওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে এবং একাডেমিক রেকর্ডে গবেষণার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়।
কেকে/এমএস