ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে বিভাগটির ৪৩৮ নম্বর কক্ষে নবীনবরণ আয়োজন করা হয়। এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, কলম ও চিরকুট দিয়ে বরন করা হয়।
বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও বিভাগের প্রভাষক রুকাইয়া আখতারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. বেগম রোকসানা মিলি। ওরিয়েন্টেশন বক্তা ছিলেন অধ্যাপক ড. সরওয়ার মুর্শেদ রতন, শুভেচ্ছা বক্তা ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় এবং প্রভাষক জাকির হোসেন। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উজ্জ্বল হোসেন।
এ সময় নবীনরা তাদের অনুভুতি প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক ত্যাগ, পরিশ্রমের পর আজ আমরা এই কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের, যাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা, শৃঙ্খলা ও মেধা দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব ও মান-মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখব। প্রথম থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা করার পাশাপাশি সবার সাথে সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষা করব।’
বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান বলেন, ‘১৯৯৬ সালে তোমাদের মতোই এই প্রাঙ্গণে আমি প্রথম পা রেখেছিলাম। এখানে উপস্থিত কারও অতীতই সহজ ছিল না। কঠোর পরিশ্রম আর আত্মপরিবর্তনের মধ্য দিয়েই আজ আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছি। যে বিভাগে সুযোগ পেয়েছ তা মেনে নিয়ে নিষ্ঠার সাথে পড়াশোনা চালিয়ে যাও। জীবনে সফল হতে হলে দুটি জিনিস মনে রাখবে, কৃতজ্ঞতা ও বিনয়। ফলবান বৃক্ষ যেমন ফল দেওয়ার সময় নুয়ে পড়ে, তোমরাও জ্ঞান অর্জনের সাথে সাথে নিজেকে বিনয়ী করতে শেখো। দেখবে তোমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।’
ওরিয়েন্টেশন বক্তা অধ্যাপক ড. সরওয়ার মুর্শেদ রতন বলেন, ‘এই জীবন দিয়ে আমরা কী চাই, এ জীবন দিয়ে আমাদের কী হবে, এটা আমাদের ভাবতে হবে। খালি বইয়ের পাতার উপর পাতা উল্টাবো, আড্ডার পর আড্ডা মারবো, এ জীবন লইয়া কি এই করিবো? রবীন্দ্রনাথ বলছেন সার্থক জনম আমার, জন্মেছি এই দেশে। রবীন্দ্রনাথ তো ওনার জীবন সার্থক করছে। কিন্তু আমরা কি আমাদের জীবন সার্থক করছি? এটা ভাবতে হবে। আমাদের মূল্যবান জীবনকে মূল্যায়ন করতে হবে; মানবতার জন্য, মনুষ্যত্বের জন্য, আমাদের বিবেকের চর্চা করতে হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি বলেন, ‘এতগুলো ভবিষ্যত সাংবাদিকের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছি এটা আমার জন্য অনেক গর্বের। একজন সাংবাদিক অবশ্যই এথিক্যাল হবে, সে নৈতিক হবে। তোমরা এমন কোন সংবাদ পরিবেশন করবে না, যেটা তোমার, আমার, সামগ্রিকভাবে আমাদের সকলের, সমাজের জন্য ক্ষতিকারক কিছু হয়। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে ভালো রেজাল্ট করে বের হলে অবশ্যই তুমি মূল্যায়িত হবে। তবে কখনোই হলুদ সাংবাদিকতার দিকে যাবে না।’
মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘যারা আজকের নবীন, উদ্বোধনী ক্লাসে এসেছে তাদের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। দীর্ঘদিনের চাওয়া এবং দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তোমরা আজকে এই পর্যায়ে এসেছ। অনেকে অনেক চেষ্টা করেও এপর্যায়ে আসতে পারেনি, সেদিক থেকে তোমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যে যেরকম কার্যক্রম করবে, যে সময়কে যেভাবে গুরুত্ব দেবে, যে যেমন পরিকল্পনা করবে ও বাস্তবায়ন করবে—পরবর্তী জীবন কিন্তু এর ওপরই নির্ভর করবে। যদি এই সময়কে গুরুত্বহীনভাবে তোমরা কাটিয়ে দাও, তাহলে তোমাদের প্রত্যাশিত জায়গাতে যেতে পারবে না।’
কেকে/ এমএস