ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শহীদ সাজিদ আবদুল্লাহর হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন ও দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে এবং প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে বিভাগের উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা ও সাজিদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিচার বিচার বিচার চাই, সাজিদ হত্যার বিচার চাই; ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই; আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে; সাজিদের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না; রশি লাগলে রশি নে, খুনিদের ফাঁসি দে; আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এ সময় তালাবায়ে আরাবিয়ার সভাপতি শামীম বলেন, এক বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এই খুনিদেরকে এখনো পর্যন্ত চিহ্নিত করতে পারি নাই। এটা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের জন্য ব্যর্থতা। যতদিন পর্যন্ত শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহর খুনিদেরকে বের করা না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা এই আন্দোলনের সাথে থাকবো এবং রাজপথে থাকবো।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, এটা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও কলঙ্কজনক যে, হত্যাকাণ্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ই করতে পারে নাই, জড়িতদের চিহ্নিত করা তো দূরের কথা। বিচারহীনতার কারণে ক্যাম্পাসে অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ইদানীং প্রশাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বললেই বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়। এই বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া বন্ধ করে সমালোচনাকে নিতে শিখুন।
ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় নাই এবং হত্যার রহস্যও উন্মোচন হয় নাই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের যথেষ্ট হেয়ালিপনা এখানে দেখতে পেয়েছি। প্রশাসনকে বললে বলে এটা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের বিষয়। তাহলে সাজিদ আব্দুল্লাহর পরিবারকে যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল, সেই দায়িত্বটাও কি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কিনা জানতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন সাজিদ আব্দুল্লাহকে চিনতে পারে, জানতে পারে, সাজিদ আব্দুল্লাহ সম্পর্কে তাদের একটা ধারণা থাকতে পারে, এজন্য সাজিদের নামে একটি হলের নামকরণের দাবি জানাই এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সাজিদের পরিবারকে প্রতিশ্রুত সেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাই।
মানববন্ধনে উত্থাপিত দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে সাজিদের বাবা আহসান হাবীব দেলওয়ার বলেন, যাকে আমি হারিয়েছি তাকে নাহয় পাবোনা, তাই বলে কি বিচারও পাবোনা? আমার ছেলে হারাইছে, আর যেন কাউকে ছেলে হারাতে না হয়। আমার মনের যে ব্যথা তা আমি রাখবো কোথায়, এইটাও আমার জায়গা নাই। এক বছর পরে এখানে দাঁড়িয়ে আমাকে কথা বলতে হবে, এইটা চিন্তাও করি নাই। এক বছরেও একজন আসামিও গ্রেপ্তার হলো না, এইটা কেমন কথা হলো? আপনারা সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যার বিচার করেন। দায়মুক্ত হন। এইটা কেমন কথা যে বিচার হবে না? সব আছে, আইন আছে, আদালত আছে, আর আল্লাহ তো এই অধিকার আমাকে দিয়েছেন খুনিদেরকে বিচারের আওতায় আনার, তাহলে বিচার করতে অসুবিধা কি?
কেকে/ এমএস