গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) থেকে দ্বিতীয়বারের মতো এক্সটার্নশিপের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সে অনুষদের ১২ তম ব্যাচের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৮টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্য দেশ ছেড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মালয়েশিয়ার খ্যাতনামা 'ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া কেলান্টানে' ১২ তম ব্যাচের মোট ৮ জন শিক্ষার্থী ১৫ দিন এক্সটার্নশিপ করবে, তবে সময়সীমা বাড়তে পারে বলে জানা যায়।
ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. মোফাস্সের হোসেন মীম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা মালয়েশিয়ায় এক্সটার্নশিপ করতে যাচ্ছি। এমন আন্তর্জাতিক সুযোগ আমাদের পেশাগত দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দেশের পাশাপাশি বিদেশের ভেটেরিনারি চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে তুলনামূলক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ হবে, যা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে অত্যন্ত সহায়ক হবে। আমাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের আন্তর্জাতিক এক্সটার্নশিপ এর সুযোগ করে দেবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়।”
এই বিষয়ে অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম খান জানান, শিক্ষার্থীদের বিদেশে এক্সটার্নশিপে পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের আন্তর্জাতিক মানের ব্যবহারিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত করা। সেখানে তারা উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি, সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা প্রটোকল সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এসব সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত। ফলে বিদেশে অর্জিত অভিজ্ঞতা তাদের পেশাগত দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। বিদেশে এক্সটার্নশিপে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তরিক শুভকামনা রইল। আশা করি, আগামী দিনগুলোতে আমাদের আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক এক্সটার্নশিপের সুযোগ লাভ করবে।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম ব্যাচের ২৫ জন শিক্ষার্থী নেপালের খ্যাতনামা ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ে, অষ্টম ব্যাচের ২১ জন শিক্ষার্থী নেপালের এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে, নবম ব্যাচের ৬ জন শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ার 'ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া কেলান্টানে' এবং একই ব্যাচের আরও ১৩ জন শিক্ষার্থী নেপালের এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে সফলভাবে এক্সটার্নশিপ সম্পন্ন করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের মে মাসে দেশের প্রথম ও একমাত্র বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গবিতে ভেটেরিনারি শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) মাত্র ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেয়। তবে পরে আসনসংখ্যা ৫০-এ উন্নীত হয়। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ১১ টি ব্যাচ স্নাতক সম্পন্ন করেছে।
কেকে/সাশ