রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভিস রুলস ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রিত ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উপাচার্যের আদেশক্রমে তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক মো. রাজিবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরা হয়। একই দিন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হকের স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অপতৎপরতা-সংক্রান্ত সংবাদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সুস্পষ্টভাবে রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতার শামিল। এ জাতীয় অপতৎপরতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্রবিরোধী, আইনবিরোধী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, নৈতিক অবস্থান এবং পেশাগত দায়িত্বশীলতার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন এবং সচিব হিসেবে রয়েছেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো. ইসরাফুল হক। এছাড়া কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম এবং ইবির প্যানেল আইনজীবী ড. মো. সাজ্জাত হোসেন। গঠিত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান সম্পন্ন করে আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভিস রুলস ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুনরায় স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে যে, রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারী কোনো ব্যক্তি, তাঁর পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে, ছাড় পাবেন না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সর্বাবস্থায় দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ক্যাম্পাসের একাডেমিক পরিবেশ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
কেকে/এমএস