গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধারণ করা ভিডিও আপত্তিকর ক্যাপশনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগে ফিরোজ কবির নামে এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে এসে প্রক্টোরিয়াল বডির কাছে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সভাপতিসহ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ফিরোজ কবিরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। অভিযুক্ত ফিরোজ কবিরের গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলায়। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নিরিবিলি এলাকায় বসবাস করেন এবং গ্লোবাল অ্যাটায়ার লিমিটেড এ কর্মরত রয়েছেন।
জানা যায়, এফ কে নামক ফেসবুক পেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর ক্যাপশনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডিকে অবগত করা হয়। প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে থাকা ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করে সত্যতা খুঁজে পান। ভিডিওগুলোর বিষয়বস্তুতে অশ্লীলতা না থাকলেও ব্যবহৃত ক্যাপশনগুলো আপত্তিকর ছিল।
পরবর্তীতে অভিযুক্তের স্ত্রী উপস্থিত হলে তাকে পুরো বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি জানান তার স্বামীর এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি পূর্বে অবগত ছিলেন না। ফিরোজ কবির নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিলে তার স্ত্রীর জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সভাপতি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট দেখি। পোস্টে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি আপত্তিকর ক্যাপশন দিয়ে ফেসবুকের পেজে প্রকাশ করা হয়েছিলো। বিষয়টি অবগত হয়ে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসি এবং প্রক্টোরিয়াল বডিকে অবহিত করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্য কওছার আহমেদ বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জানতে পারি ফিরোজ কবির নামক ব্যক্তি তার এফ কে মিডিয়া নামক ফেসবুক পেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ধারণ করা ভিডিও অশ্লীল ক্যাপশন দিয়ে আপলোড করেন। শিক্ষার্থীরা ভিডিওগুলো দেখে এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আসে। খবর পেয়ে আমরা এর সত্যতা পাই। এরই প্রেক্ষিতে তার স্ত্রীকে বিষয়টি অবগত করে মুচলেকা নিয়ে তার স্ত্রীর জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।’
কেকে/সাশ