ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে গেস্টরুমে নেওয়ার হুমকি ও মারধরের ঘটনায় ছাত্রশিবির কর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহফুজকে আবাসিক সিট বাতিল করে তাকে ছয় মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে ঢাবির বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ১৯ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে বিজয় একাত্তর হলের যমুনা ব্লকের অতিথিকক্ষ-সংলগ্ন ওয়াশরুম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আহমেদ শাহরিয়ার নীড়ের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হল প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ‘
তদন্ত কমিটি ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পেয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের শৃঙ্খলাবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজকে বৃহস্পতিবার (৬০ আগস্ট) থেকে ছয় মাসের জন্য বিজয় একাত্তর হল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
একই সঙ্গে যমুনা-৯০০৫ (সি-২) কক্ষে তার বরাদ্দকৃত সিট বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে ভুক্তভোগী আহমেদ শাহরিয়ার নীড় অভিযোগ করেন, গত ১৯ জুলাই রাত ১২টার দিকে তিনি ওয়াশরুমে যেতে চাইলে মাহফুজ তাকে বাধা দিয়ে পাশের ওয়াশরুমে যেতে বলেন।
তবে পাশের ওয়াশরুমটি বন্ধ থাকায় তিনি আবার আগের ওয়াশরুমে যাওয়ার চেষ্টা করলে মাহফুজ তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দেওয়া এবং মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন নীড়।
শাহরিয়ার নীড়ের ভাষ্য, তাকে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের সঙ্গে ঠেকিয়ে রাখা হয়। এ সময় হাতে আঘাত পাওয়ার একটি ছবিও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
নীড় অভিযোগ করেন, এ সময় মাহফুজ তাকে গালাগাল করেন এবং গেস্টরুমে নেওয়ার হুমকি দেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী মাহফুজ ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
তবে শাহরিয়ার নীড়কে ডাকসু নির্বাচনের সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্লোগান দিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া তিনি সাদিক কায়েমের সঙ্গে ডাকসু নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ডাকসু নির্বাচনের পরও বিভিন্ন সময়ে সাদিক কায়েমের সঙ্গে মাহফুজের চলাফেরার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে।
তবে এসব বিষয় নিয়ে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কেকে/এমএ