ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, বাবুনগরে তার সফরের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি দোয়া নিতে এবং পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই এসেছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাবুনগরে এসেছি দোয়া নিতে। হেফাজতের আমির আমার পরিবারের সদস্য। এখানে রাজনীতির কোনো বিষয় নেই।”
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ধর্মকে ব্যবহার করে যারা রাজনীতি করে, তারা নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্যই রাজনীতি করে। তারা মানুষের জন্য রাজনীতি করে না।” তিনি বলেন, “আমার দল নীতিগতভাবে ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের বিপক্ষে। হেফাজতে ইসলামকে একটি ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে দেখা হয়, যারা ইসলামী মূল্যবোধ ও দেশের স্বার্থের পক্ষে কথা বলে।”
এক প্রশ্নের জবাবে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত অনুষ্ঠিত হবে—এমন আলোচনা থাকলেও নির্বাচন আয়োজন শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; দেশের সার্বিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হয়।
তিনি বলেন, “এরই মধ্যে আমরা একটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছি। দুর্যোগের সময় মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাই সবার আগে। নির্বাচন বা রাজনীতি মানুষের বেঁচে থাকার পরের বিষয়। আগে মানুষকে নিরাপদ রাখতে হবে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনারা দেখেছেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। গত ৪৩ বছরের মধ্যে এটিকে অন্যতম বড় বন্যা বলা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সবার উচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”
ত্রাণ ও দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজ সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে আমি মাঠে আছি। এখন প্রায় রাত ১০টা বাজে। এই পরিশ্রমের উদ্দেশ্য একটাই—মানুষকে সচেতন রাখা, নিরাপদ রাখা এবং বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করা।”
সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আল্লামা আইয়ুব বাবুনগরী, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা জুনায়েদ বিন জালাল, আবু তালেব, মাওলানা ইয়াহিয়া এবং নাজিরহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক এজাহার মিয়াসহ বিএনপি ও হেফাজতের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কেকে/এলএ