কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়নে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে দুই ভাই-বোন। একে অপরকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টার শেষ পরিণতি হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর মর্মান্তিক আলিঙ্গন।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কায়ছার হাবিব দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ, আর প্রতিবেশীদের চোখেও নেমে এসেছে অশ্রু।
নিহতরা হলেন উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়নের কুকরারাই হাজী বাড়ির বাসিন্দা হাফেজ জাহেদ আলী মুন্সীর ছেলে আশরাফুল (৯) ও মেয়ে তুলনা (১৩)। তারা সম্পর্কে সৎ ভাই-বোন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে কুকরারাই বাংলা বাজার জামে মসজিদসংলগ্ন একটি বিলে হাঁটুসমান পানিতে খেলছিল আশরাফুল। খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশত সে বিলের গভীর অংশে চলে যায় এবং পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। ছোট ভাইকে ডুবে যেতে দেখে বড় বোন তুলনা কোনো কিছু না ভেবেই তাকে উদ্ধারের জন্য পানিতে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু সাঁতার না জানায় গভীর পানির স্রোতে পড়ে একপর্যায়ে সেও পানিতে তলিয়ে যায়।
দুই ভাই-বোনকে একসঙ্গে পানিতে ডুবে যেতে দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন। স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদের উদ্ধার করে দ্রুত বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। হাসপাতালে এবং পরে তাদের বাড়িতে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একসঙ্গে দুই সন্তানের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশীরাও এমন মর্মান্তিক ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বড় বোন নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে। এমন হৃদয়স্পর্শী ঘটনা এলাকায় আগে কেউ দেখেনি। শিশুদের প্রতি আরও বেশি নজরদারি এবং জলাশয়ের পাশে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কায়ছার হাবিব বলেন, “খবর পেয়ে আমি নিহত দুই শিশুর বাড়িতে গিয়ে তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। একই সঙ্গে স্থানীয়দের নিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেছি। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”
তিনি আরও বলেন, “বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন বিল, পুকুর ও জলাশয়ে পানি বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।”
কেকে/এলএ