ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে বান্দরবানের লামা উপজেলায় মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঢলের পানিতে ভেসে গেছে উপজেলার শত শত পুকুর ও ফিশারির মাছ। এতে চরম পুঁজি সংকটে পড়েছেন স্থানীয় মৎস্য চাষিরা।
উপজেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মৎস্য খাতে ১৪৩টি পুকুর ও প্রকল্প বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত সর্বমোট প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মাছ ও পোনা ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি পুকুর ও ফিশারির পাড় এবং অবকাঠামো ভেঙে চাষিরা এখন দিশেহারা।
প্রায় ৩৭.৮২ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। প্রায় ৩৭ লক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ভেসে গেছে; যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩৩ লক্ষ টাকা।
পুকুরগুলোতে বাজারজাতকরণের উপযোগী মজুতকৃত মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৯৭.৫৮ লক্ষ টাকা।
ঢলের তোড়ে পুকুরের পাড় ভাঙন এবং ঘেরের নেট-পাটা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অবকাঠামোগত ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ১৩ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে মৎস্য খাতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৪৩ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা।
উপজেলার বন্যায় প্লাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে মৎস্য খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে লামা পৌরসভা, লামা সদর ইউনিয়ন, রূপসীপাড়া, সরই ও ফাঁশিয়াখালী ইউনিয়নে। এসব এলাকার অধিকাংশ পুকুর পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে একাকার হয়ে যায়, যার ফলে চাষিরা কোনো মাছই রক্ষা করতে পারেননি।
উপজেলার বেশ কিছু বৃহৎ ও বাণিজ্যিকভাবে সফল মৎস্য প্রকল্প এবারের বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রজেক্টগুলো হলো মেসার্স আলম এগ্রো ফার্ম (লামা সদর)। সিদ্দিকুল আলম ডনের এই বৃহৎ এগ্রো ফার্মের মৎস্য প্রকল্পটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে প্রকল্পের সব মাছ ভেসে গেছে।
লামা ফিসারী কমপ্লেক্স (হরিণঝিরি, পৌরসভা) আমির হোসেনের মালিকানাধীন এই ফিশারি কমপ্লেক্সটি লামা পৌরসভার অন্যতম প্রধান মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র ছিল। আকস্মিক ঢলে এই কমপ্লেক্সের লাখ লাখ টাকার মাছ ও পোনা ভেসে গেছে।
হারেছ মাল্টি ফার্ম (ধুইল্যাপাড়া,সরই) ধুইল্যাপাড়ার এই মাল্টি ফার্মটির মৎস্য ঘেরগুলোও বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে, যার ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই উদ্যোক্তা।
স্থানীয় মৎস্য চাষিরা জানান, অনেকেই ব্যাংক ঋণ ও বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করেছিলেন। কিন্তু মুহূর্তের বন্যায় তাদের সব স্বপ্ন পানিতে ভেসে গেছে। অবকাঠামোগত ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে পোনা ছাড়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য এখন অনেকেরই নেই।
ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিরা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং মৎস্য খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের নিকট দ্রুত আপদকালীন আর্থিক প্রণোদনা ও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে লামা উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মো.আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।মাছ ও পোনা ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি পুকুর ও ফিশারির পাড় এবং অবকাঠামো ভেঙে চাষিরা এখন দিশেহারা। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষীদের জন্য যদি বরাদ্দ পাওয়া যায়, তবে ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করে সহযোগিতা করা হবে।’
কেকে/এমএ