মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক      ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি সিএনজি স্টেশন মালিকদের      হামে শিশুমৃত্যু ৭০০ ছাড়াল      গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর: ডা. জাহেদ      শারমিন হত্যা মামলায় পিবিআইয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য      সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুটি প্যাকেজ ঘোষণা      বিশ্বে ২৯ মিলিয়ন শিশু এখনও হামের টিকার সুরক্ষার বাইরে      
দেশজুড়ে
শেরপুরে খাল খননের সুফল পাচ্ছে কৃষকরা, জলাবদ্ধতা নিরসনে মিলছে স্বস্তি
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় কৃষকদের সুবিধার্থে ও কৃষির সামগ্রিক উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কর্মসূচির সুফল পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমে আগে যেখানে হাজার হাজার একর জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো, খাল খননের ফলে এখন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। এতে রক্ষা পাচ্ছে কৃষকের ফসল, আর জলাবদ্ধ জমিগুলো পুনরায় চাষাবাদের উপযোগী হয়ে উঠায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের প্রান্তিক চাষিরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগে বর্ষার মৌসুমে যেসব আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে থাকত, খাল খননের পর পানি প্রবাহিত হয়ে নেমে যাওয়ায় সেসব জমিতে আমন ধান চাষের জন্য কৃষকরা হালচাষ ও জমি প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন।

চকসিংড়া এলাকার কৃষক সেলিম ও শামিম বলেন, গত বছর এই বর্ষা মৌসুমে আমাদের জমিগুলো পানিতে ভেসে গিয়েছিল। এবার খাল খনন করায় বৃষ্টির পানি খুব দ্রুত নেমে গেছে। জমি থেকে পানি সরায় আমরা এখন ধান চাষের জন্য হালচাষ শুরু করেছি।

একই চিত্র দেখা গেছে লক্ষিকোলা এলাকায়। এখানকার বাসিন্দা জহুরা বেগম জানান, আগে বর্ষার সময় জমানো পানি উঠে উঠান ও বাড়িঘর প্লাবিত করত। এবার খাল খননের কারণে পানি সোজা খাল দিয়ে নেমে গেছে। বাড়িতেও পানি ওঠেনি, আবার জমিতেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি।

অন্যদিকে, স্থানীয় কৃষক রফিক ও হাফিজার বলেন, খনন করা খাল দিয়ে মুক্তভাবে পানি প্রবাহিত হওয়ায় আমরা সেখান থেকে সুবিধামতো মাছও ধরতে পারছি। এতে আমাদের পরিবারের আমিষের চাহিদাও মিটছে। বর্ষা মৌসুমের কারণে খালে পানি জমে থাকায় বর্তমানে খননকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। পানি শুকিয়ে গেলে পুনরায় কাজ শুরু হবে এবং সরেজমিনে কাজের মান শতভাগ যাচাই করেই বাকি বিল পরিশোধ করা হবে।

শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় ও সরেজমিন সূত্রে জানা গেছে, ভদ্রাবতী, চকরামপুর ও একদুলতলা খাল প্রকল্প: মোট ৯.০৩ কিলোমিটার খালের মধ্যে ইতিমধ্যে ৪.৩৩ কিলোমিটার অংশের খনন সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রকল্পের প্রায় ৫০% অগ্রগতি। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫০% বিল পরিশোধ করার কথা থাকলেও কাজের মান ও পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস থেকে এখন পর্যন্ত ২৮% বিল প্রদান করা হয়েছে।

ঝাঁজর, পারভবানীপুর, মেই খাল, কৈগাড়ী ও দুধকমাড় খাল এই প্রকল্পের আওতায় ৯.০৯ কিলোমিটার খালের মধ্যে প্রায় ৮.৭১৫ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। ঝাঁজর এলাকার খাল খননের কাজ প্রায় ৮০% শেষ। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কারণে ঠিকাদারকে এ পর্যন্ত ৫০% বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি ও কাজের মান সম্পর্কে জানতে চাইলে শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ জানান, খাল খননের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। কাজের ধারা অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিল বেশি পাওয়ার কথা থাকলেও, সিডিউল অনুযায়ী আমরা সরজমিনে প্রতিটি খালের কাজের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করব। কাজের সঠিক মান নিশ্চিত করার পরই কেবল সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হবে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের কারণে খননকাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে, পানি কমলেই বাকি কাজ শেষ করা হবে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close