গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। গত সাত দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছেন ৩৬৩ জন। এর মধ্যে ৭৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষার মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্তের হার প্রায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে এটি উপজেলার মোট জনসংখ্যার মধ্যে আক্রান্তের হার নয়; পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে আসা রোগীদের ফলাফলের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে।
সাত দিনের মধ্যে শেষ দুই দিনের চিত্র বিশেষভাবে উদ্বেগের। ১৭ সেপ্টেম্বর ৫৪ জনের পরীক্ষা করে ১২ জন এবং ১৮ সেপ্টেম্বর ৮২ জনের পরীক্ষায় ১৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। অর্থাৎ দুই দিনে ১৩৬টি পরীক্ষায় ২৬ জন পজিটিভ হয়েছেন।
এর আগে, ১২ সেপ্টেম্বর ৫০টি পরীক্ষায় ১২ জন, ১৩ সেপ্টেম্বর ৪৮টিতে ৮ জন, ১৪ সেপ্টেম্বর ৪৩টিতে ৯ জন, ১৫ সেপ্টেম্বর ৪৮টিতে ১১ জন এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ৩৮টি পরীক্ষায় ৮ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, কারও দুই-তিন দিন ধরে জ্বর, আবার কেউ দুই-তিন সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছেন। কারও সঙ্গে রয়েছে পেটব্যথাসহ অন্যান্য উপসর্গ।
দরদরিয়া গ্রামের রবিন আহমেদ (২৫) বলেন, ১৮ দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন তিনি। পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আড়াল গ্রামের রমজান দুই দিন ধরে জ্বরে ভুগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বীর উজলী গ্রামের রইস উদ্দিনও পাঁচ দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উত্তর খামের গ্রামের কামাল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার হঠাৎ জ্বর আসার পর শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা করে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বীর উজলী এলাকার শিক্ষার্থী আনাছও পাঁচ-ছয় দিন জ্বরে ভোগার পর পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ হন। তরগাঁওয়ের যোবায়ের হোসেন জ্বরের সঙ্গে পেটব্যথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, আগের তুলনায় জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো কিছু ঘাটতি নেই।’
সরকারি হিসাবে সাত দিনে ৭৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত এবং শেষ দুই দিনে ২৬ জন পজিটিভ হওয়ার তথ্যের পাশাপাশি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্যও সমন্বয় করা হলে কাপাসিয়ায় ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
কেকে/ এমএস