একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা—এবার পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন। এমন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নীলফামারীর জমজ দুই বোন নিত্যপ্রিয়া অথৈ রায় ও নিত্যশ্রী তাথৈ রায়।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় তাদের এই সাফল্যের সারর্থী নীলফামারী জেলা শহরের শাহীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। জমজ ওই বোন ২০২৪ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল ওই বিদ্যালয়ে। জমজ বোনের ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জনে আনন্দিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিবারসহ এলাকাবাসী।
নিত্যপ্রিয়া অথৈ রায় ও নিত্যশ্রী তাথৈ রায় জেলা শহরের কবরস্থান মোড় কলেজপাড়া এলাকার প্রবানন্দ রায় রাখাল ও চন্দনা রানী রায় দম্পতির কন্যা। বাবা একজন ব্যবসায়ী এবং মা চন্দনা রানী রায় হাড়োয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
তাদের মা-বাবা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ছোটবেলা থেকেই দুই বোন নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়ে আসছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি তারা সাংস্কৃতিক চর্চায়ও পরদর্শী। চিত্রাঙ্কন ও সঙ্গীতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের অনেক পুরস্কার অর্জন করেছে তারা। শিক্ষকদের পরামর্শ এবং বাবা-মায়ের উৎসাহ-অনুপ্রেরণায় প্রাথমিকের চুড়ান্ত সাফল্য অর্জন করেছে তারা।
ওই দুই শিক্ষার্থী বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে জেলা শহরের রাবেয়া বালিকা বিদ্যানিকেতনে। ভবিষ্যতে লেখাপাড়া করে তারা চিকিৎসক হতে চায়। আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে তারা সেবা করতে চায় দেশ ও মানুষের।
নিত্যপ্রিয়া অথৈ রায় ও নিত্যশ্রী তাথৈ রায় বলে, ‘এই অর্জন আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে চিকিৎসক হতে চাই। আলোকিত মানুষ হয়ে অবদান রাখতে চাই দেশের কল্যাণে’।
তাদের মা চন্দনা রানী রায় বলেন, ‘মেয়েদের এই অর্জনে আমরা খুবই আনন্দিত। তাদের সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও নিজেদের কঠোর পরিশ্রম রয়েছে। সবাই তাদের জন্য আর্শিবাদ করবেন, যেন তারা ভবিষ্যতে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। আলোকিত মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য অবদান রাখতে পারে।’
শাহীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খায়রুন নেছা বলেন, ‘একই সঙ্গে দুই জমজ শিক্ষার্থীর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন বিদ্যালয়ের জন্য গর্বের বিষয়। তাদের এই সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদের অনুপ্রানিত করবে।’
কেকে/ এমএস