সরকার ঘোষিত জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকরের আগে পাম্প বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং আগের দামে জ্বালানি চাওয়াকে কেন্দ্র করে নীলফামারীর ডিমলায় গ্রাহকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক ফিলিং স্টেশনের মালিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লোহার রডের আঘাতে এক কেমিস্টসহ দুজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত মাহবুবুর রহমান (২৭) ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে ডিমলার মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। পরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিলিং স্টেশনটির কার্যক্রম ও জ্বালানি বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়ার পর মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাম্পটি বন্ধ করে কর্মচারীরা চলে যান বলে অভিযোগ করেন তারা। মূল ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পাম্পের ডিজিটাল সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে দাবি তাদের।
গ্রাহকদের অভিযোগ, রাত ১২টার পর বর্ধিত দামে জ্বালানি বিক্রির উদ্দেশ্যে পাম্পের মালিক শাহ আলমের নির্দেশে পাম্প বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে নতুন দাম মেশিনে সেটআপ করার সময় দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষমাণ গ্রাহকেরা আগের নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি দেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় পাম্প মালিক শাহ আলম ক্যাশ কাউন্টার থেকে একটি লোহার রড নিয়ে গ্রাহকদের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে কেমিস্ট আব্দুল কাদের ও গ্রাহক মাহবুবুর রহমান আহত হন।
পাম্প চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ডিমলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফিলিং সেন্টারটির সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে গ্রাহকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাম্প মালিক শাহ আলম। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমার কাছে পূর্বের দামে কেনা ১০ হাজার ৪৯৭ লিটার পেট্রোল, ১০ হাজার ৩৮০ লিটার অকটেন এবং প্রায় ১১ হাজার লিটার ডিজেল মজুদ রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটি থাকায় সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। আমাদের কর্মচারীদের ওপরই আগে হামলা চালানো হয়েছে।’
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, পাম্প মালিক শাহ আলম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কেকে/সাশ