রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক উপপরিদর্শককে (এসআই) কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তেজগাঁও বিভাগের (মোহাম্মদপুর-আদাবর জোন) সহকারী পুলিশ সুপার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “এটি ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়। ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। হামলাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের সি ব্লকের ৪ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. ওসমান গনি। তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ঢাকার ইমিগ্রেশন শাখায় কর্মরত। পরিবারসহ তিনি কাদেরাবাদের নেছা মঞ্জিল নামে একটি ভবনে ভাড়া থাকেন।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি এসআই ওসমান গনির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার বাসার গেটের সামনে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেন। ভুক্তভোগীর ধারণা, ওই ঘটনার সঙ্গে হামলার কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী তানজিনা সীমা ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে মকবুল হোসেন কলেজ এলাকার বাজার থেকে সবজি ও ফল কিনে বাসায় ফিরছিলেন এসআই ওসমান গনি। বাসার অদূরে পৌঁছালে পেছন থেকে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠে আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতের পর আহত পুলিশ কর্মকর্তা হামলাকারীকে ধাওয়া করলেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী তানজিনা সীমা বলেন, “আমরা বাজার করে বাসায় ফিরছিলাম। আমার স্বামীর কোলে সন্তান ছিল, আর আমার হাতে ছিল বাজারের ব্যাগ। হঠাৎ পেছন থেকে একজন এসে ছুরি দিয়ে আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাটি ঘটে যায়।”
তাদের ভবনের কেয়ারটেকার আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি চার মাস ধরে ভবনটির দায়িত্বে রয়েছেন। তার ভাষ্য, স্যার খুবই ভালো মানুষ। কেন এমন হামলা করা হলো, সেটি তদন্ত করে বের করা উচিত। হামলার পর কয়েকজন হামলাকারীকে ধাওয়া করলেও সে পালিয়ে যায়।
আহত এসআইকে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার পিঠে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানে ৪৩টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ হামলাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
কেকে/ এমএস