রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতে পারে ৩০ জুলাই      আজ বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন মো. সাহাবুদ্দিন      ফের আগ্রাসী বিএসএফ      খুনখারাবিতে ইমেজ সংকটে বিএনপি      তিন কর্মকর্তার সমন্বয়হীনতায় বনভূমি দখলের মহোৎসব      তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান      ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ইতিকথা
ড. মো. আনোয়ার হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখর থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘটনা রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। রাষ্ট্রপ্রধানদের এ প্রস্থান কখনো রাজনৈতিক সংকট মোচনে, কখনো শারীরিক অসুস্থতার কারণে, আবার কখনো নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। বিশ্ব রাজনীতি এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রনেতাদের এই স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তরের সিদ্ধান্তগুলো শাসনতান্ত্রিক বিবর্তন ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একমাত্র প্রেসিডেন্ট হিসেবে রিচার্ড নিক্সন ১৯৭৪ সালের ৯ আগস্ট ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির জেরে অভিশংসন এড়াতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। ফ্রান্সের পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের স্থপতি শার্ল দ্য গল ১৯৬৯ সালের ২৮ এপ্রিল তার প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটে পরাজয়ের পর নৈতিক দায় স্বীকার করে পদ ছাড়েন। সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর পরাশক্তিটির আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়ে এক ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন। 

রাশিয়ার প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলতসিন ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর এক আকস্মিক টেলিভিশন ভাষণে শারীরিক অসুস্থতা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্বার্থে ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯৯৯ সালে তার প্রথম মেয়াদের পর স্বেচ্ছায় দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচন না করার এবং ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুকরণীয় সিদ্ধান্ত নেন। 

মিশরের দীর্ঘকালীন প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আরব বসন্তের তীব্র গণআন্দোলনের মুখে জনগণের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। জিম্বাবুয়ের দীর্ঘদিনের শাসক রবার্ট মুগাবে ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর সামরিক হস্তক্ষেপ ও অভিশংসন প্রক্রিয়ার মুখে দীর্ঘ ৩৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেন।

ইয়েমেনের গণবিক্ষোভের মুখে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি রাজনৈতিক সমঝোতা চুক্তির আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন।

আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেল আজিজ বুতেফলিকা ২০১৯ সালের ২ এপ্রিল দীর্ঘ ২০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তীব্র গণবিক্ষোভ এবং সেনাবাহিনীর অনাস্থার মুখে পদত্যাগ করেন। বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর তীব্র নির্বাচনি বিতর্ক ও সেনাবাহিনীর চাপের মুখে দেশের শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে পদত্যাগ করেন। কাজাখস্তানের দীর্ঘকালীন দূরদর্শী প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নাজারবায়েভ ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ প্রায় তিন দশক ক্ষমতায় থাকার পর আকস্মিকভাবে নতুন প্রজন্মের জন্য পথ ছেড়ে দিতে পদত্যাগ করেন।

সুদানের দীর্ঘকালীন শাসক ওমর আল-বশির ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল তীব্র গণআন্দোলনের মুখে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রাক্কালে পদত্যাগের সম্মতি দেন। শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের তীব্রতম অর্থনৈতিক সংকটের জেরে সৃষ্ট গণবিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ২০২২ সালের ১৪ জুলাই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে ইমেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠান। 

গাম্বিয়ার স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া জামেহ ২০১৬ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ক্ষমতা আকড়ে রাখার চেষ্টা করলেও ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি আঞ্চলিক সামরিক চাপের মুখে পদত্যাগ করে নির্বাসনে যান। জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট এডুয়ার্ড শেভারদনাদজে ২০০৩ সালের ২৩ নভেম্বর ঐতিহাসিক ‘রোজ রেভোলিউশন’ বা গোলাপ বিপ্লবের তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে রক্তপাত এড়াতে পদত্যাগ করেন। তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট জিনে এল আবিদিন বেন আলী ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি জেসমিন বিপ্লবের তীব্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান, যা আরব বসন্তের সূচনা করে।

পেরুর প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিদোরি ২০০০ সালের নভেম্বর মাসে ভয়াবহ দুর্নীতি কেলেঙ্কারির মুখে জাপান সফরে থাকা অবস্থায় ফ্যাক্সের মাধ্যমে তার পদত্যাগপত্র পাঠান। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ফের্নান্দো কলোর দি মেলো ১৯৯২ সালের ২৯ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত ভয়াবহ দুর্নীতি ও অভিশংসন এড়াতে সিনেট ট্রায়াল শুরুর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে পদত্যাগ করেন। ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘ ৩২ বছরের একচ্ছত্র শাসক সুহার্তো ১৯৯৮ সালের ২১ মে এশীয় অর্থনৈতিক সংকট ও তীব্র ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। 

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ফের্নান্দো দে লা রুয়া ২০০১ সালের ২১ ডিসেম্বর দেশের ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা ও রক্তাক্ত দাঙ্গার মুখে হেলিকপ্টারে করে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করার প্রাক্কালে পদত্যাগ করেন। ইতালির প্রেসিডেন্ট জর্জিও নাপোলিতানো ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি তার ৮৯ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং শারীরিক অসমর্থতার কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। জার্মানির ফেডারেল প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান উলফ ২০১২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পর পদের মর্যাদা রক্ষার্থে নৈতিক কারণে পদত্যাগ করেন। গিয়েনিয়ার প্রেসিডেন্ট আলফা কোন্দে ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সামরিক বাহিনীর বিশেষ ইউনিটের হাতে আটক হওয়ার পর রাজনৈতিক সংকট নিরসনে পদত্যাগের দলিলে স্বাক্ষর করেন।

মালির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম আবুবকর কেইতা ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট সামরিক অভ্যুত্থান ও তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে দেশে কোনো ধরনের রক্তপাত না চাওয়ার ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫ দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ যাবৎকালের মোট ২৩ জন রাষ্ট্রপতির মধ্যে ১০ জনের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই শেষ হয়েছে, যার মধ্যে ৮ জন রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক সংকটের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
 
বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, যিনি সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতাহীনতা এবং সরকারের সঙ্গে কিছু নীতিগত দ্বিমতের কারণে ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। এর পরবর্তী ধাপে, দেশের শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালুর পর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি থেকে পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া মোহাম্মদ মোহাম্মদুল্লাহ ১৯৭৫ ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রত্যাবর্তনের সুবিধার্থে পদত্যাগ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম ট্র্যাজেডির পর ক্ষমতা দখলকারী খন্দকার মোশতাক আহমদ সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের তীব্র টানাপোড়েনের মুখে মাত্র ৮১ দিন ক্ষমতায় থাকার পর ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর পদ ছাড়তে বাধ্য হন।

এরপর প্রধান বিচারপতি থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকারী বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম সামরিক আইন বলবৎ থাকাকালীন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন।

নব্বইয়ের দশকের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশের দীর্ঘকালীন সামরিক শাসক ও রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্মিলিত বিরোধী দলের তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন।

নব্বই পরবর্তী গণতান্ত্রিক যুগে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের অনাস্থা এবং তীব্র রাজনৈতিক দূরত্বের কারণে পদের মর্যাদা রক্ষার্থে ২০০২ সালের ২১ জুন অত্যন্ত নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যে পদত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক সংকটের সময় এবং ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের পটভূমিতে রাষ্ট্রপতি ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে তীব্র চাপের মুখে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পদত্যাগ করলেও রাষ্ট্রপতির পদে বহাল থাকেন। 

বাংলাদেশের সাম্প্রতিকতম এবং অত্যন্ত আলোচিত সাংবিধানিক প্রস্থানটি ঘটে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-র মাধ্যমে, যিনি ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতা, হৃদরোগ ও অটোনমিক নিউরোপ্যাথিজনিত গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট লিখিত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন। 

২০২৪ সালের আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দীর্ঘ সময় তার বৈধতা ও পদত্যাগ নিয়ে নানামুখী বিতর্ক ও চাপ তৈরি হয়েছিল এবং অবশেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বঙ্গভবনের অধ্যায় সমাপ্ত করেন।

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বঙ্গভবনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতির স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্তটি কেবল একটি ব্যক্তিগত প্রস্থান নয়, বরং এটি গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ ও শাসনতান্ত্রিক সংকটের ফলশ্রুতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াটারগেট থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী মোঃ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনাই প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদের স্থায়িত্ব শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক নৈতিকতা, গণআকাক্সক্ষা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার ওপরই নির্ভর করে।

লেখক : প্রাবন্ধিক

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close