দৈনিক খোলা কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো হেপাটাইটিস বি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার ও জাতির সামনে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা।’
সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন সভাকক্ষে ‘হেপাটাইটিস প্রতিরোধে প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, হেপাটাইটিস বি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজেদের অজান্তেই এ ভাইরাস বহন করছেন। অথচ এটি প্রতিরোধে কার্যকর টিকা রয়েছে। এরপরও জনগণের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা এখনো গড়ে ওঠেনি। আধুনিক যুগেও এ বিষয়ে আরও ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
আহসান হাবীব বলেন, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ এই নীতিকে সামনে রেখে হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। রোগটি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা গেলে সংক্রমণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, আমার বাড়ি নীলফামারী, আমরা গ্রাম থেকে উঠে আসা সাধারণ পরিবারের মানুষ। আমাদের সচেতনতার অভাব রয়েছে এটা সত্য কথা। গ্রামে বা সাধারণ পরিবারে কোনো রোগব্যাধি হলে চিকিৎসার পেছনে খরচ করতে গিয়ে মানুষ কীভাবে নিঃস্ব ও দরিদ্র হয়ে পড়ছে, সে চিত্র ও পরিবারের কষ্টগুলো আমরা খুব কাছ থেকে বুঝি।
মো. আহসান হাবীব বলেন, এ বিষয়ে আমাদের রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সচেতনতা প্রয়োজন। টিকা দেওয়ার বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক ব্যাপার নয়। সরকার চাইলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিগত উদ্যোগ নিতে পারে যেমন কোনো শিশু স্কুলে ভর্তির সময় হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নিয়েছে কি না তা যাচাই করা কিংবা বিভিন্ন ছোট-বড় ফ্যাক্টরিতে লাইসেন্স দেওয়া বা ভিজিটের সময় শ্রমিকরা টিকা নিয়েছে কি না তা তদারকি করা। সরকার এমন উদ্যোগ নিলে জনগণ নিজেরাই কাজটি করবে, কারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে নিজেকে এবং এই সুন্দর পৃথিবীতে বাঁচতে চায়। কিন্তু শুধু অবহেলা ও গাফিলতির কারণে অনেকে টিকা নেয় না এমনকি শিক্ষিত সমাজেও এ গাফিলতি অনেক বেশি। তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি এটি বাস্তবায়নের জন্য অন্য পেশাজীবীদেরও ভূমিকা রয়েছে। যেমন মাত্র ৫০০ টাকার একটি টিকা না নেওয়ার কারণে ভবিষ্যতে কী পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে, তা হিসাব করে বুঝিয়ে বললে মানুষ অনেক বেশি সচেতন হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে হলে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা খুবই জরুরি; কারণ অসুস্থ শরীরে কাজের কোনো উৎসাহ থাকে না। আপনাদের মতো গুণিজনেরা যখন খোলা কাগজের ডাকে এসে বক্তব্য দেন, তখন আমরা উৎসাহিত হই। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে সম্মিলিত চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে, যেন বাংলাদেশে একে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও গ্রহণযোগ্য জায়গায় নিয়ে আসা যায়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. এবিএম খোরশেদ আলম ভূঞা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম মাজহারুল ইসলাম, শ্যামলী টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার, সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের মো. আবদুল কাদের ভূঁইয়া, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. দীপক কুমার মিত্র, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ (মেডিকেল অ্যাফেয়ার্স) ডা. সাখি আজাদ, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, খোলা কাগজের নির্বাহী সম্পাদক মো. মনির হোসেন, প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. সফিকুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক প্রণব আচার্য্য ও মো. রবিউল ইসলাম, প্রধান প্রতিবেদক আলতাফ হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
কেকে/ এমএস