অবিবাহিত বা ব্যাচেলরদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহৎ গবেষণা। তবে গবেষকরা বলছেন, এর অর্থ এই নয় যে বিয়ে না করলেই ক্যান্সার হবে। বরং জীবনযাপনের ধরন, সামাজিক সম্পর্ক এবং স্বাস্থ্যসচেতনতাই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণা সাময়িকী ক্যান্সার রিসার্চ কমিউনিকেশনে প্রকাশিত এবং ই-ক্যান্সারে আলোচিত গবেষণাটিতে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি এবং প্রতিরোধযোগ্য ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট।
গবেষণার প্রধান সহ-লেখক ড. পাওলো পিনহেইরো বলেন, জনসংখ্যাভিত্তিক বিশ্লেষণে বৈবাহিক অবস্থা ক্যান্সারের ঝুঁকি মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে উঠে এসেছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, এর পেছনে সামাজিক ও জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয়ও কাজ করতে পারে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি মিলার স্কুল অব মেডিসিনের অন্তর্ভুক্ত সিলভেস্টার কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টারের গবেষকরা। তাদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা এবং সামাজিক সহায়তা—এসব বিষয় ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন নিউইয়র্কের অনকোলজিস্ট ড. নিকোলাস হর্নস্টাইন। তিনি বলেন, বিয়ে না করলেই ক্যান্সার হবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ক্যান্সার একটি বহুমাত্রিক রোগ, যার পেছনে জিনগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশ, জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈবাহিক অবস্থার চেয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান পরিহার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং শক্তিশালী সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর কার্যকর উপায়।
গবেষণাটি নতুন করে বৈবাহিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু করলেও গবেষকরা বলছেন, এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। তাই শুধুমাত্র বৈবাহিক অবস্থার ভিত্তিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি নির্ধারণ করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
কেকে/ এমএস