ঢাকার আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই আমাদের নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সকালে খটখটে রোদে বের হলেন, অথচ দিন শেষে বাসায় ফেরার পথে হঠাৎ নেমে গেল ঝুম বৃষ্টি। আবহাওয়ার এই হঠাৎ পরিবর্তনের ধকল শুধু আমাদের নয়, আমাদের ত্বকের ওপরও পড়ে।
গরম, ধুলাবালি ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা এসি রুমে প্রবেশ, আবার কিছুক্ষণ পর গরমের মধ্যে বেরিয়ে আসা—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই নানা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় ত্বককে।
ফলে কোনো দিন ত্বক থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, আবার কোনো দিন মুখ ধোয়ার পরই টানটান লাগে। কখনো ত্বককে মলিন মনে হয়, আবার দুপুর হতে না হতেই মুখ হয়ে ওঠে অতিরিক্ত তেলতেলে। এসব সমস্যার সমাধানে দীর্ঘদিন ধরেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে ঢাকার মতো উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ময়েশ্চারাইজার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেই যে ত্বক পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড থাকবে, বিষয়টি এমন নয়। ত্বকের প্রয়োজন হলো আর্দ্রতা ও তেলের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা।
ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য তৈরি কোনো ঘন ক্রিম ঢাকার গরমে সবার কাছে আরামদায়ক নাও হতে পারে। ঘাম ও ত্বকের অতিরিক্ত তেলের সঙ্গে মিশে এ ধরনের ক্রিম অনেকের কাছে ভারী বা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে।
এ কারণেই ময়েশ্চারাইজার বাছাইয়ের সময় শুধু ব্র্যান্ড বা উৎপাদনের দেশ নয়, নিজের ত্বকের ধরন ও স্থানীয় আবহাওয়াকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। কোরিয়ান, জাপানি বা ইউরোপীয় কোনো পণ্য অন্য দেশে ভালো কাজ করলেও বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সেটি সবার জন্য সমান স্বস্তিদায়ক হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
বর্তমানে এ কারণে হালকা বা লাইটওয়েট ময়েশ্চারাইজারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ময়েশ্চারাইজার কেনার সময় এখন অনেকেই জানতে চান—এটি দ্রুত ত্বকে মিশে যাবে কি না, ব্যবহারের পর আঠালো বা চিটচিটে অনুভূতি থাকবে কি না কিংবা এর ওপর সানস্ক্রিন ও মেকআপ ব্যবহার করলে ত্বক অতিরিক্ত তেলতেলে দেখাবে কি না।
দেশীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোও ভোক্তাদের এসব চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী ফর্মুলা ও উপাদান নিয়ে কাজ করছে। এর ফলে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।
এ ধরনের পণ্যের মধ্যে রয়েছে ‘রাজকন্যা’র লাইট ময়েশ্চারাইজার। এটি হালকা, জেলজাতীয় টেক্সচারের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে। প্রস্তুতকারকের দাবি, ত্বকে ভারী বা চিটচিটে অনুভূতি তৈরি না করে এটি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
পণ্যটিতে রাইস ওয়াটার ও লিকোরিস এক্সট্র্যাক্টের মতো উপাদান রয়েছে। স্কিনকেয়ারে রাইস ওয়াটার সাধারণত ত্বককে আর্দ্র ও কোমল রাখতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, লিকোরিস এক্সট্র্যাক্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা ও অসম রঙের যত্নে ব্যবহৃত একটি পরিচিত উপাদান।
দাম ২৯৫ টাকা হওয়ায় পণ্যটি তুলনামূলকভাবে বাজেটের মধ্যে রাখা হয়েছে বলেও জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড। তবে ময়েশ্চারাইজার কেনার ক্ষেত্রে দাম বা ব্র্যান্ডের পাশাপাশি নিজের ত্বকের ধরন, উপাদান এবং আবহাওয়ার সঙ্গে পণ্যটির উপযোগিতাকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
সবশেষে বলা যায়, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের উদ্দেশ্য শুধু ত্বককে আর্দ্র রাখা নয়; বরং এমন একটি পণ্য বেছে নেওয়া, যা ত্বকের প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় রাখবে এবং ব্যবহারের পর অতিরিক্ত ভারী বা চিটচিটে অনুভূতি তৈরি করবে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় হালকা টেক্সচারের ময়েশ্চারাইজার অনেকের জন্য বেশি স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
কেকে/সাশ