শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬,
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হলেন কাজী সালাউদ্দিন      অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসেই বাড়ছে রোগ, সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী      সরকার সংসদেই জাতীয় সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে      শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন মার্কিন বিনিয়োগকারীরা      বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা      রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে আজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক      রাজনীতিতে ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব      
লাইফস্টাইল
ভিএঅস ও কিশোওয়ারের হাত ধরে দিন বদলের নতুন যাত্রা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

সাবেক মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া ফাইনালিস্ট কিশোওয়ার চৌধুরীকে নিয়ে ‘ফ্লেভারস অব হোম’ আয়োজনের মাধ্যমে ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএঅস) শুধু বাঙালি ঐতিহ্যকেই উদযাপন করেনি,  পাশাপাশি বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দিয়েছে।  

যুগের পর যুগ ধরে নারীদের কাছে খাবার কখনোই শুধু স্বাদ গ্রহণের বিষয় না। এর প্রতিটি পদে পদে লুকিয়ে থাকে নানা রকম স্মৃতি, প্রতিটি রন্ধনপ্রণালীতে থাকে একেকটি গল্প, আর প্রতিটি পরিবেশনে ফিরে আসে নিজের শিকড়ের টান। সেই টান উপলব্ধি করে বিশ্ব দরবারের বৃহৎ রন্ধনশিল্পের মঞ্চে পান্তাভাত, আলুভর্তা আর খিচুড়ির মতো সাধারণ বাঙালি খাবারকে পৌঁছে দিয়েছিলেন যে নারী, সে হল কিশোওয়ার চৌধুরী। 

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া সিজন ১৩’-এর দ্বিতীয় রানার-আপ, যার পথচলা আজ রান্নাঘরের গণ্ডি পেরিয়ে তরুণ সমাজের অনুপ্রেরণা ও সামাজিক উদ্যোগের এক অনন্য উদাহরণ। 

ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ


রোববার (২৬ জুলাই) ভিএএইউএস আয়োজিত ‘ফ্লেভারস অব হোম’ অনুষ্ঠানে তিনি শৈশবের স্মৃতি, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রন্ধনশিল্পের মঞ্চে পৌঁছানোর যাত্রা এবং ‘কিশোওয়ার’স কালিনারি কোহর্ট (কেসিসি) উইংস’-এর মাধ্যমে ঢাকা উত্তরের করাইলের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য রন্ধন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।  

২০১৬ সালের অক্টোবরে সিডনিতে পুনর্মিলনী আয়োজনের পরিকল্পনা থেকেই যাত্রা শুরু হয় ভিএঅসের। পুরোনো শিক্ষার্থীদের বন্ধনকে আবারও জাগিয়ে তুলতে এবং সেই বন্ধনকে কীভাবে সমাজের জন্য অর্থবহ কিছুতে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবা থেকে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ভিএঅস। এরপর থেকে সংস্থাটি অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজ্য ও অঞ্চলের প্রায় ১২টি সংস্থাকে সহায়তা করেছে। 

এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল নারী, শিশু ও পরিবারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মর্যাদা উন্নয়নে কাজ করা। অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া এই মানবিক উদ্যোগের প্রভাব বাংলাদেশেও পৌঁছে দিতে ভিএঅস এবার ‘কিশোওয়ার’স কালিনারি কোহর্ট-কেসিসি উইংস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।  আয়োজন করেছে ‘ফ্লেভারস অব হোম : অ্যান আরভো উইথ কিশোওয়ার চৌধুরী’।  

আশি ও নব্বইয়ের দশকে, যখন ক্যাটারিং সেবা এতটা প্রচলিত ছিল না, তখন পারিবারিক আয়োজন মানেই ছিল সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ। এমন এক প্রাণবন্ত পরিবেশেই কিশোওয়ারের রান্নার হাতেখড়ি, যেখানে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের আসতে আলাদা নিমন্ত্রণের প্রয়োজন হতো না। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে শিখিয়েছে, খাবার শুধু পুষ্টি নয়, মানুষকে একত্রে আনারও শক্তি। আর এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল তার ছেলের একটি কথাই, ‘মা, তুমিও করো।’
  
এই অনুপ্রেরণা তার মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় যাত্রায় শুধু বিশ্বজুড়ে বাঙালি ঘরোয়া রান্নার পরিচয়ই দেয়নি, বরং একটি সাধারণ স্বপ্নকে বৃহত্তর উদ্দেশ্যে রূপান্তরিত করার মঞ্চও জুগিয়েছিল এবং অন্যদেরও বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিল যে, রান্নাও একটি পেশা হতে পারে। সাথে দিয়েছিল এক গভীর উপলব্ধি, রেসিপি, পারিবারিক স্মৃতি আর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে আসা গল্পগুলো যদি লিপিবদ্ধ না করা হয়, তবে সেগুলো খুব সহজেই হারিয়ে যেতে পারে। আর সেই উপলব্ধিই জন্ম দেয় তার বই ‘স্মোক, রাইস, ওয়াটার’-কে। বইটির  ১৬০টিরও বেশি কপি অনুষ্ঠানের দিন নতুন ঠিকানা খুঁজে পায়। বইটির মাধ্যমে ঐতিহ্য রক্ষা ছিল কিশোওয়ারএর  লক্ষ্যের একটি অংশ মাত্র। 

তিনি চেয়েছিলেন, খাদ্য যেন অন্যদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করে দেয়। সেই ভাবনা থেকেই তিনি কেসিসি উইংস’ উদ্যোগের সূচনা করেন। এই প্রোগ্রামটির মূল উদ্দেশ্য হলো করাইলের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের প্রাতিষ্ঠানিক  শিক্ষা, পেশাদার রান্নাঘরে কাজের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ, ইংরেজি ভাষার প্রশিক্ষণ, পারিবারিক সহায়তা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হোটেল চেইনের সঙ্গে মেন্টরশিপের সুযোগ করে দেয়া। কিশোওয়ারের এই স্বপ্নের উদ্যোগকে সমর্থন জানাতে ভিএঅস কেসিসি উইংসের জন্য পাঁচ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের একটি অনুদান চেক দেয়। এই অনুদানটি ভিএঅসের ‘কানেক্ট টু কেয়ার’ দর্শন অর্থাৎ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক থেকে অর্থবহ সামাজিক প্রভাব সৃষ্টির বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে।  
 
কিশোওয়ারের কাছে এই অনুদান শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এর তাৎপর্য ছিল আরও অনেক গভীর। তিনি বলেন, “ভিএঅসকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ, কারণ তারা শুধু আমার যাত্রাকেই উদযাপন করেনি, বরং অন্য কারও ভবিষ্যতেও বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” 

কিশোওয়ারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে ভিএঅসের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও অ্যাডভাইসর ড. সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান বলেন, “ভিএএইউএস বিশ্বাস করে, শিক্ষা শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।” 

ভিএঅসের জন্য ‘ফ্লেভারস অফ হোম’ কেবল একজন প্রখ্যাত শেফকে আমন্ত্রণ জানানো বা প্রবাসীদের একত্রিত করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল না বরং ঐতিহ্যকে অর্থবহ কর্মকাণ্ডে রূপান্তরিত করা।   

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  কিশোওয়ার চৌধুরী   ফ্লেভারস অব হোম   ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া   কেসিসি উইংস  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

লাইফস্টাইল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close