খোলা কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর পটুয়াখালীর দশমিনায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীর এমসিকিউ উত্তরপত্র পূরণ ও প্রতিস্থাপনের অভিযোগে হল সুপার মো. মহিউদ্দিনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
রোববার (২ আগস্ট) বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাসেদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক। তিনি পরীক্ষার সময় সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় উপকেন্দ্রের হল সুপারের দায়িত্বে ছিলেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত এইচএসসি কৃষি শিক্ষা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীর বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) উত্তরপত্র শিক্ষক কক্ষে বসে পূরণ এবং পরীক্ষা শেষে তা প্রতিস্থাপনের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুপারিশ এবং খোলা কাগজ ও অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে হল সুপার ও কেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বোর্ডের নোটিশে বলা হয়েছে, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন অনুযায়ী উত্তরপত্র প্রতিস্থাপন বা পরীক্ষার্থীকে অবৈধভাবে সহায়তা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজ ছিল মূল কেন্দ্র এবং সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল উপকেন্দ্র। অভিযোগ রয়েছে, এমসিকিউ পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র প্যাকেটজাত করার সময় হল সুপার তার মামাতো ভাই, পরীক্ষার্থী মোর্শেদ জিহাদের উত্তরপত্র আলাদা করে শিক্ষক কক্ষে বসে পূরণ করেন। পরে সেই উত্তরপত্র প্রতিস্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক বিষয়টি কেন্দ্র সচিবকে জানালেও তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাসেদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার লিখিত জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেকে/ এমএস