ইসলামে বিয়ে হলো একটি পবিত্র ইবাদত, দায়িত্বপূর্ণ অঙ্গীকার এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত সম্মানজনক চুক্তি। মানুষের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা, সমাজকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে সুরক্ষা এবং পারিবারিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ তাআলা বিবাহ ব্যবস্থাকে হালাল ও সুন্নাহ হিসেবে প্রবর্তন করেছেন। সুন্নাহ তরিকায়, সঠিক নিয়ত ও শরীয়তসম্মত নিয়মে সম্পন্ন বিয়েই কেবল বরকতপূর্ণ হয়।
১. বিয়ে ইসলামে কেন এত গুরত্বপূর্ণ?
ইসলাম বিয়েকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’ বলে উল্লেখ করেছেন।
কুরআনের ঘোষণা:
আর কিভাবে তোমরা তা গ্রহণ করবে, অথচ তোমরা একে অন্যের সাথে মিলিত হয়েছো এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে। (সূরা নিসা: ২১)
এটি প্রমাণ করে বিয়ে কোনো সাধারণ চুক্তি নয়; বরং আল্লাহর সামনে করা এক পবিত্র অঙ্গীকার।
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও স্পষ্ট করে বলেছেন:
“বিয়ে করা আমার সুন্নত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে অপছন্দ করে, সে আমার উম্মত নয়। (ইবনে মাজাহ: ১৮৪৬)
অতএব, বিয়ে করা শুধু বৈধই নয় বরং নবী (সা.) এর সুন্নাহ পালন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
২. সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন ইসলামের দৃষ্টিতে
দুনিয়ার মানুষ সাধারণত সৌন্দর্য, সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু ইসলাম মানুষের অন্তরের গুণকে গুরুত্ব দেয়।
রাসূল (সা.) বলেন:
একজন নারীকে সাধারণত চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করা হয় তার সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য এবং দ্বীন। তুমি দ্বীনদার নারীকে গ্রহণ করো। (সহিহ বুখারি: ৫০৯০। সহিহ মুসলিম: ১৪৬৬)
এই হাদিস আমাদের শেখায় দ্বীন ও চরিত্রই হলো টেকসই সুখের মূল চাবিকাঠি।
৩. অভিভাবকের অনুমতি (ওলি) অপরিহার্য শর্ত
ইসলামে নারীর বিয়েতে ওলির অনুমতি বাধ্যতামূলক।
রাসূল (সা.) বলেন:
ওলির অনুমতি ছাড়া কোনো নারী বিবাহ করতে পারে না। (আবু দাউদ: ২০৮৫। তিরমিজি: ১১০১)
অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সম্পন্ন বিয়ে শরীয়তসম্মত নয় এবং এতে বরকতও থাকে না।
৪. বিয়েতে সাক্ষীর গুরুত্ব
নিকাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কমপক্ষে দুইজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিম সাক্ষী আবশ্যক।
রাসূল (সা.) বলেন:
ওলি ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া কোনো নিকাহই সম্পন্ন নয়। (বায়হাকি: ১৬৩৬)
৫. মোহর নারীর সম্মান ও অধিকার
মোহর হলো স্ত্রীর শরীয়তসম্মত অধিকার, যা স্বামীকে অবশ্যই আদায় করতে হবে।
কুরআন বলে:
তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর স্বেচ্ছায় দিয়ে দাও। (সূরা নিসা: ৪)
মোহর কম বা বেশি হতে পারে, তবে তা অবহেলা করা জুলুমের শামিল।
৬. নিকাহর খুতবা (খুতবাতুন্নিকাহ্)
রাসূল (সা.) নিকাহর সময় যে খুতবা পাঠ করতেন, তা আজও সুন্নাহ হিসেবে প্রচলিত।
কুরআনের আয়াতসমূহ:
১। সূরা আলে ইমরান: ১০২
২। সূরা নিসা: ১
৩। সূরা আহযাব: ৭০-৭১
এই খুতবার মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা, তাকওয়ার নির্দেশ ও রাসূল (সা.) এর সাক্ষ্য উচ্চারিত হয়।
৭. সুন্নতি পদ্ধতিতে কবুল
নিকাহর সময় ওলি বলেন:
আমি তোমাকে আমার কন্যা অমুককে মোহর অমুকের বিনিময়ে বিবাহ দিলাম।
বর বলেন:
আমি কবুল করলাম।
এই সরল ও স্পষ্ট কবুলই সুন্নাহ তরিকাহ।
৮. বিয়ের পর দোয়া
রাসূল (সা.) দোয়া করতেন:
বারাকা আল্লাহু লাকা, ওয়া বারাকা আলাইকা, ওয়া জামা‘আ বাইনা কুমা ফী খায়র।
(তিরমিযি: ১০৯১)
অর্থ:
আল্লাহ তোমাদের জীবনে বরকত দিন এবং তোমাদের সম্পর্ক কল্যাণের উপর স্থাপন করুন।
৯. বিয়েতে ইসলাম যেগুলো বারণ করেছে
ইসলাম সহজ ও বরকতময় বিয়ে চায়। তাই নিষিদ্ধ করেছে
১। যৌতুক
২। অহংকার
৩। অপব্যয়
৪। বেহায়াপনা
৫। গান-বাজনা
৬। ছবি ও ভিডিও প্রদর্শন
কুরআনের সতর্কবাণী:
নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।
(সূরা বনী ইসরাঈল: ২৭)
মানিকদি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বাংলাদেশ
কেকে/ এমএস