শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট ও কোচিংনির্ভরতা কমাতে শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত ও কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল।
তিনি বলেন, “শিক্ষকরা যদি নিয়মিত ও আন্তরিকতার সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের বাইরে গিয়ে কোচিং বা প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন হবে না। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সময় দেওয়ার সুযোগ পাবে।”
রোববার (৯ আগস্ট) নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া ডিগ্রি পাস ও অনার্স কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এমন প্রতিশ্রুতি থাকা জরুরি যে, শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পাঠদান নিশ্চিত করা হবে এবং অতিরিক্ত প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন হবে না।”
তিনি আরো বলেন, “প্রাইভেট পড়ার পেছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে শিক্ষার্থীরা যদি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়, তাহলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ আরও সুদৃঢ় হবে।”
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, “বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়ন কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। দেশের অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় এক হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়। ‘গাছ লাগিয়ে যত্ন করি, সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এসব চারা বিতরণ করা হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী নিজ হাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা তুলে দেন।
কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. ইসমত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুন-অর রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাংবাদিকরা।
কেকে/সাশ