মহাকবি কায়কোবাদ স্মৃতি সংসদের ২০২৬-২০২৭ সাল মেয়াদের জন্য ২১ জনবিশিষ্ট নতুন কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন সেলিম ইব্রাহিম ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন এসএম আজাদ রহমান।
বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির বাকিরা হলেন সহ-সভাপতি বোরহান উদ্দিন, জাকিউজ্জামান মো. গিয়াস উদ্দিন, সহসাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ সাহা ও জহির সজিব, মহিলা সম্পাদক সামসাদ বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হামিদ, কোষাধ্যক্ষ আওলাদ হোসেন চন্দন, দপ্তর সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান খান মাসুম, প্রচার সম্পাদক খালেদ আল মামুন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক দেওয়ান মামুন, কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন আতাউল্লাহ স্বপন, আবুল কালাম মোহনপুরী, ফিরোজ খান প্রিন্স, বিপ্লব শুভ, জাকির আহমেদ লিটন, মাসুদ রানা বিপ্লব, ইমরান হোসেন, জিয়াউর রহমান জিয়া।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মহাকবি কায়কোবাদ স্মৃতি সংসদ মহাকবির জীবন, সাহিত্য ও স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তার সাহিত্যিক অবদান তুলে ধরার কাজে ধারাবাহিকভাবে নিয়োজিত রয়েছে। মহাকবিকে নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে এই সংসদ ইতোমধ্যে নিজেদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছে।
সংগঠনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য আয়োজন হলো কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে তার নিজ এলাকার সাতটি মসজিদে একযোগে জুমার নামাজ শেষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন। এ ছাড়া মহাকবির সাহিত্য ও স্মৃতি সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি জানাতে সংগঠনটি এ পর্যন্ত ১৬ জনকে ‘মহাকবি কায়কোবাদ পদক’ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই স্বীকৃতি-কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মহাকবির স্মৃতিবিজড়িত বসতবাড়ি উদ্ধার ও সংরক্ষণেও কাজ করে যাচ্ছে সংসদ। এই উদ্যোগে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং তাদের সহযোগিতায় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কায়কোবাদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী জাতীয়ভাবে পালনের লক্ষ্যেও সংগঠনটি নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কবির নিজ এলাকার পাশাপাশি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার জীবন ও সাহিত্যকর্মকে জাতীয় সাংস্কৃতিক পরিসরে তুলে ধরার প্রয়াস চালানো হচ্ছে।
এদিকে মহাকবি কায়কোবাদের নামে তার নিজ এলাকায় একটি স্মারক তোরণ নির্মাণের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সংগঠনটি; অনুমোদন মিললেই কবির জন্মভূমিতে তার স্মৃতির একটি স্থায়ী নিদর্শন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
উল্লেখযোগ্য, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় পাঠ্যক্রম থেকে কায়কোবাদের সাহিত্যকর্ম বাদ পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মহাকবি কায়কোবাদ স্মৃতি সংসদ পাঠ্যপুস্তকে পুনরায় তার সাহিত্যকর্ম অন্তর্ভুক্তির দাবিতে সোচ্চার রয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছে।
সংগঠনটি মনে করে, বাংলা সাহিত্যের এই গুরুত্বপূর্ণ কবির রচনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পাঠ্যক্রমে তার অন্তর্ভুক্তি অপরিহার্য।
নতুন কমিটি মহাকবি কায়কোবাদের সাহিত্য ও স্মৃতি সংরক্ষণ, তার রচনার প্রচার-প্রসার, গবেষণা ও স্মরণ-কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি কবির জন্মভূমি ও স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মহাকবি কায়কোবাদ। তার সাহিত্যিক অবদানকে জাতীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তার জীবন ও কর্মের পরিচয় পৌঁছে দেওয়াই মহাকবি কায়কোবাদ স্মৃতি সংসদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য
কেকে/এমএ