সাত দশমিক সাত মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ইন্দোনেশিয়ায় আবারও আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এবার দেশটির উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের পেমাতাংসিয়ান্তার শহরে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে পেমাতাংসিয়ান্তারের ১৩ কিলোমিটার পশ্চিমে কেন্দ্রস্থলের ১৬৩ কিলোমিটার গভীরতায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বেএমকেজি) জানিয়েছে, ভূমিকম্প যেখানে সংঘটিত হয়েছে সেখানকার মানুষ এটি অনুভব করেছেন। তবে এই ভূমিকম্পের প্রভাবে তাক থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া, জানালা ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি ছাড়া বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এর পূর্বে শনিবার ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে তেনেগ্গারা প্রদেশের পূর্ব নুসার ফ্লোরেস দ্বীপে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে।
তীব্র কম্পনের পর উপকূলীয় নাগেওকেও, সিক্কা ও পূর্ব নুসা তেংগারা এলাকায় সমুদ্রের পানি হঠাৎ সরে যেতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সুনামি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা সঙ্গে সঙ্গে সুনামি সতর্কতা জারি করে। পরবর্তীতে সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বড় কোনো বিপদের আশঙ্কা না থাকায় সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও পোস্ট হয়েছে। সেসবে ভবন ও বাড়িঘর ধ্বংসের পাশাপাশি লোকজনকে আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে।
প্রাথমিক হিসাবে ৫৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাংগারাই প্রদেশকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সূত্র : ভলকানো ডিসকভারি
কেকে/এমএ