যুদ্ধ অবসানে ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটিকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে জাতিসংঘে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে শিগগির একটি সমঝোতা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে কি না—এ বিষয়ে তাকে বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে আগের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দ্রুত ‘ধ্বংস’ করা হবে—সেটিই এখন সিদ্ধান্তের বিষয়।”
ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘প্রচার’ আখ্যা দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর, বিধ্বংসী ও অনিশ্চিত পাল্টা আঘাত হানার জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তবে উত্তপ্ত বক্তব্যের আড়ালে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। প্রায় সাত মাস ধরে চলা এ সংঘাত শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে। এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন, বেড়েছে তেলের দাম এবং সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে আশপাশের কয়েকটি দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা দিনভর দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ করেছেন। আলোচনাগুলো গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আগ্রহী মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই পথ দিয়ে পরিবহন হতো। তবে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে দেশগুলো তেহরানকে অতিরিক্ত শক্তিশালী করার বিষয়েও সতর্ক।
ট্রাম্প বলেন, ইরান পরিস্থিতির অবসান আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর, এমনকি তার আগেও হতে পারে। তবে ঠিক কী হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংঘাত কমাতে গত কয়েক মাস ধরে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা করে আসছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারে তেহরান। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনের কাছে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব পৌঁছেছে বলেও জানান তিনি। দাবি পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে উপসাগরীয় জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে ইরান।
তবে ইরানের অবস্থান যে এখনো কঠোর, তা স্পষ্ট করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। তিনি বলেন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর ওপর শক্তি প্রয়োগ করা সম্ভব নয়—ট্রাম্পকে তা বুঝতে হবে।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ