টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নিবন্ধনহীন ও অবৈধভাবে নকল তামাকজাত পণ্য (জর্দা) তৈরির অভিযোগে একটি কারখানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী লাঞ্ছিত ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কারখানার মালিক মোহাম্মদ আলী (৬০) ও তার দুই ছেলে মিজান (৪০) এবং শাকিলের (২৪) বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, গালিগালাজ, শারীরিকভাবে আঘাতের চেষ্টা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কালা সড়কসংলগ্ন কুকাদাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মোহাম্মদ আলী ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে অনুমোদন ও নিবন্ধন ছাড়াই নকল তামাকজাত পণ্য জর্দা উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথভাবে ওই কারখানায় একাধিকবার অভিযান চালিয়ে অর্থদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি কারখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় গোপনে কারখানাটি চালু করে জর্দা উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছিল। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী কারখানাটিতে গেলে মালিক ও তার দুই ছেলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
একপর্যায়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিকভাবে আঘাতের চেষ্টা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাস্থলে থাকা গণমাধ্যমকর্মীরা হলেন—ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল এস টেলিভিশনের ভূঞাপুর উপজেলা প্রতিনিধি হাদী চকদার, বৈশাখী টেলিভিশনের ভূঞাপুর-গোপালপুর প্রতিনিধি দুলদুল হোসেন রাজু, দৈনিক জনতার জমিনের ভূঞাপুর উপজেলা প্রতিনিধি মাসুদুল হাসান কবির, দৈনিক বাংলাদেশের আলোর ভূঞাপুর উপজেলা প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম শিপন এবং দৈনিক ঘোষণার ভূঞাপুর উপজেলা প্রতিনিধি মো. আব্দুল্লাহ।
গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকেই ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিমকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানানো হয়। পরে ওসির নির্দেশে ভূঞাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুবেলসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
তবে পুলিশের উপস্থিতির আগেই অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা কারখানাটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল এস টেলিভিশনের প্রতিনিধি হাদী চকদার বলেন, “আমরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু কারখানার মালিক ও তার দুই ছেলে আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেন। তারা গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে আঘাত করার চেষ্টা ও হুমকি দেন।”
বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিনিধি দুলদুল হোসেন রাজু বলেন, “একজন সাংবাদিক হিসেবে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু সেখানে আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি প্রশাসন ও পুলিশকে তাৎক্ষণিক জানানো হয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।”
অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী, মিজান ও শাকিলের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ঘটনার পর তারা ঘটনাস্থলে না থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, “যেকোনো ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক যেন হামলা, হুমকি বা বাধার শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। ইতোমধ্যে ঘটনাটি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু প্রতিকার চাই।”
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগের বিষয়টি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে অবৈধভাবে তামাকজাত পণ্য উৎপাদনের অভিযোগ এবং প্রশাসনের পূর্বের অভিযান ও কারখানা বন্ধের নির্দেশের পরও পুনরায় চালুর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কেকে/সাশ