ঢাকার ধামরাইয়ে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম। দুজনকে আসামি করে সি আর মামলা নং- ৮০২/২৬ দায়ের করেন, যার ধারা ৪২০ ও ৫০৬। এর আগে এ ঘটনায় ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগও করেন ওই ভুক্তভোগী।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ জুন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) কার্য সহকারী পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগী মো. কামরুল হাসান খোকন ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে চার লাখ টাকা নেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও তারা চাকরি দিতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে চাকরি না হওয়ায় সিরাজুল ইসলাম তার টাকা ফেরত চান।
টাকা ফেরতের চাপের মুখে ২০২৩ সালের ২০ জুন ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম নিজের স্বাক্ষরিত একটি চেকের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন। তবে বাকি সাড়ে তিন লাখ টাকা পরিশোধ না করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামের দাবি, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
সর্বশেষ গত ১৬ আগস্ট জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে টাকা চাইতে গেলে ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে তিনি আইনের আশ্রয় নেন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও টাকা উদ্ধারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম টাকা লেনদেনের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, ‘নিউজ করার দরকার নেই ভাই। আপনার কাছে যেহেতু গিয়েছে, আমরা বসে মীমাংসা করে নিই। সে আমার কাছে টাকা পাবে সত্য, তবে এত টাকা নয়, ৭০ হাজার টাকা পাবে।’
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।