সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে তথ্য যাচাইয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা      ● মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথিরের স্ত্রী সিতি হাসমাহ আর নেই      ● হামলার পর মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকে ফিরল নিজস্ব সাইনবোর্ড      ● স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম      ● ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ      ● নানা বিতর্কে আস্থা হারাচ্ছে বিএনপি      ● তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ সংবিধানের দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি      
দেশজুড়ে
ফটিকছড়ির তথ্য বাতায়নে তথ্যেরই খরা
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য বাতায়ন ওয়েবসাইটে তথ্যের ঘাটতি দেখা গেছে। কোথাও দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বদলে সাবেক কর্মকর্তার নাম, কোথাও নতুন কর্মকর্তার নাম-পদবি ও মুঠোফোন নম্বর যুক্ত করা হয়নি। আবার কোনো কোনো দপ্তরের সেবা তালিকা, নাগরিক সনদ, টেন্ডার, অফিস আদেশ ও সভার কার্যবিবরণীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারি সেবা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নাগরিকদের অনলাইনে তথ্য জানার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা ও তথ্য পৌঁছে দিতে ২০১৪ সালের ২৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন চালু করা হয়। এর আওতায় মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। তবে ফটিকছড়ির একাধিক সরকারি দপ্তরের তথ্য বাতায়ন ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অনেক তথ্যই হালনাগাদ করা হয়নি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য বাতায়নে এখনো ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে মো. হাসান মুরাদ চৌধুরীর নাম রয়েছে। অথচ তিনি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অন্য কর্মস্থলে যোগদানের জন্য ফটিকছড়ি থেকে বিদায় নেন। মার্চের শুরুতে তাঁর স্থলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন আব্দুর রব। ছয় মাসের বেশি সময় পার হলেও তথ্য বাতায়নে নতুন কর্মকর্তার নাম যুক্ত হয়নি।

একই কার্যালয়ের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হাসানুল কবির ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট দায়িত্ব শেষ করে চলে যান। তাঁর স্থলে দায়িত্ব নিয়েছেন মো. আলাউদ্দিন। কিন্তু তথ্য বাতায়নে এখনো হাসানুল কবিরের নাম রয়েছে এবং নতুন কর্মকর্তার নাম ও পরিচয় যুক্ত করা হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব বলেন, ‘আমাদের ওয়েবসাইটের ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড হারিয়ে যাওয়ায় সাইটে তথ্য হালনাগাদ করা সম্ভব হয়নি। ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, খুব দ্রুত ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদ করা হবে।’

প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের মতো একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য বাতায়নেও। সেখানে সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ন কবিরের নাম এখনো রয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে দেবাশীষ দাশ ও অরুণ উদয় ত্রিপুরা দায়িত্ব পালন শেষে অন্য কর্মস্থলে চলে গেছেন। তাঁদের পর দায়িত্ব নেওয়া কর্মকর্তা রকর চাকমার তথ্যও এখনো হালনাগাদ করা হয়নি।

এ ছাড়া নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য বাতায়নে নাগরিকদের জন্য কী কী সেবা রয়েছে, সে-সংক্রান্ত সেবা তালিকা বা নাগরিক সনদের তথ্যও পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রকর চাকমা তথ্য বাতায়নে তথ্য হালনাগাদ না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে তথ্য হালনাগাদ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য বাতায়নেও একই অবস্থা। গত মার্চে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন ডা. তৌহিদুল আলম। যোগদানের ছয় মাস পার হলেও তথ্য বাতায়নে তাঁর নাম, পদবি, মুঠোফোন নম্বর কিংবা যোগদানের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাগরিকেরা কী কী সেবা পাবেন, সে-সংক্রান্ত সেবা তালিকা বা নাগরিক সনদের তথ্যও সেখানে নেই।

একইভাবে উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের তথ্য বাতায়নেও নাগরিকদের সেবা পাওয়ার বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য বাতায়নে বিভিন্ন সভার নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে মাসিক সাধারণ সভা, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাসহ বিভিন্ন কমিটির সভা আহ্বানের নোটিশ রয়েছে। তবে এসব সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কার্যবিবরণী বা সিদ্ধান্তের তথ্য নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে নাগরিকদের অবহিত করতে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নোটিশ প্রকাশের পর সভার সিদ্ধান্ত বা কার্যবিবরণী অনলাইনে না থাকায় তথ্যের ধারাবাহিকতা থাকছে না।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য বাতায়নেও অফিস আদেশ, খবর, টেন্ডার ও চাকরি কর্নারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। অথচ এ দপ্তরের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে সড়ক, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য বাতায়নেও বীর মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাভোগী, এতিমখানা এবং সমাজসেবামূলক সংগঠন-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য নেই।

উপজেলার একমাত্র সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেরও বড় অংশ ফাঁকা। সিলেবাস, ক্লাস রুটিন, ভর্তি, পরীক্ষা ও ফলাফল-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিভাগে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্য বাতায়নে হালনাগাদ তথ্য না থাকার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘তথ্য বাতায়ন সাইটে দ্রুত তথ্য হালনাগাদের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  ফটিকছড়ি   তথ্য বাতায়ন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close