মার্কিন ডলারের দরপতন এবং বিশ্ববাজারে বন্ডের রিটার্ন কিছুটা কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ৮ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫৬ দশমিক ২৯ ডলারে উঠেছে। তবে ডিসেম্বরে সরবরাহযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪১০ দশমিক ৩০ ডলারে নেমেছে।
এর আগে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও জাপানের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদহার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
তবে বুধবার বন্ডবাজারে বিক্রির চাপ কিছুটা কমে আসায় মার্কিন ডলারের মূল্যও কমেছে। এতে কোনো সুদ না দেওয়া সম্পদ স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে।
জেফ্রিসের মালিকানাধীন ট্রাডু.কমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস রয়টার্সকে বলেন, “ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনাও বিনিয়োগকারীরা বিবেচনায় রাখছেন। ফলে স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের বাজারে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকছে।”
তিনি বলেন, “সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বর্ণের দাম বাড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। মূল্যস্ফীতি কমার পাশাপাশি ফেডের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে।”
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭২৬ দশমিক ৯৬ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯১ দশমিক ২৮ ডলারে উঠেছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকায়।
এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ