মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কংগ্রেসীয় মিত্রদের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সময় এ আহ্বান জানাল আইআরজিসি। তেহরান এই প্রত্যাহারকে নিজেদের জন্য একটি সাফল্য হিসেবে দেখছে।
মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ২৬ পৃষ্ঠার এক চিঠিতে আইআরজিসি মার্কিন নাগরিকদের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বর্তমান নেতাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানায়। চিঠিতে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থন প্রত্যাখ্যানের কথাও বলা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ‘আমেরিকার বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী রাজনীতিকদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিন। আপনার রাজনীতিকদের বোঝান, বিশ্ব বদলে গেছে।’
তবে ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই চিঠি মার্কিন ভোটারদের বড় অংশের কাছে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রয়টার্স/ইপসোসের ২১ সেপ্টেম্বরের এক জরিপে দেখা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি মাত্র ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থন জানিয়েছেন। এ বিষয়টিই নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভোটাররা। অন্যদিকে ইরানে মার্কিন হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা।
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় নেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বুধবার এর চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হয়।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকে অভিযান চালানোর ২৩ বছর পর এই প্রত্যাহার হলো। পরবর্তী সময়ে দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে ইসলামিক স্টেটের উত্থান ঘটে।
ইরান বলছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনীকে পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়াই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। তাই ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে তেহরান নিজেদের আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ সাফল্য হিসেবে দেখছে।
কাতারের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কাতার আবারও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা জোরদার করেছে। দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি হলেও এখনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে এবং সংঘাতের ক্ষতি থেকে সবাইকে রক্ষা করতে একটি সমঝোতার ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান একটি শান্তি প্রস্তাব দেয়। এতে যুদ্ধবিরতি এবং সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হতো। সংঘাতের কারণে ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়েছে।
ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান শেষ পর্যন্ত ‘আত্মসমর্পণ করবে’।
অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছে। তেহরানের বক্তব্য, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য হিসেবে শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে।
কেকে/সাশ