ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় পিডিবির এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে পৌর শহরের শিমরাইল গ্রামের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ বাসিন্দা পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৩ আগস্ট রাতে গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নতুন ট্রান্সফরমার দেওয়ার জন্য বারবার যোগাযোগ করেও সমাধান না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হন। এ ছাড়া নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।
হামলার সময় অফিসের কাচ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ড্রয়ার ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষুব্ধ লোকজন পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা সজিব মিয়া (২৫), নূরুল হক (৬০), আতিকুল ইসলাম (৩৫) ও জহিরুল ইসলাম (২৮) বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। পানির সংকট, খাবার সংরক্ষণে সমস্যা, গরমে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তারা আরও জানান, প্রায় এক মাস আগেও গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছিল। তখন নতুনটির পরিবর্তে পুরোনো ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়। কিছুদিন পর সেটিও নষ্ট হয়ে যায়। তাদের অভিযোগ, বারবার পুরোনো ট্রান্সফরমার দেওয়ার কারণে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে আহত পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, “কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিক্ষুব্ধ লোকজন আমার ওপর হামলা শুরু করেন। ট্রান্সফরমারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে লাইন সংযোগ ও মেরামতের কাজে লাইনম্যানদের কিছু খরচাপাতি দেওয়া হয়। এলাকাবাসী মূলত নতুন ট্রান্সফরমার চেয়েছিলেন। কিন্তু ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় পুরোনো একটি ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়েছিল।”
পিডিবি ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম বলেন, “শিমরাইল গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছিল। তবে ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ট্রান্সফরমার পেতে দেরি হয়েছে। গতকাল রাতে একটি ট্রান্সফরমার এলেও সেটি পুরোনো হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এতে উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হয়েছেন।”
খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় বিক্ষুব্ধ লোকজনকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
ওসি রবিউল আজম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পরে দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষুব্ধ লোকজন সরে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
কেকে/সাশ