এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে অন্য পাঁচ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নেন।
এর পূর্বে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেন। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ পড়ান।
শুক্রবার রশিদুজ্জামান মিল্লাত ছাড়াও মন্ত্রী পদে শপথ নেন আবদুল মঈন খান, আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী।
আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের রাজনীতি, ব্যবসায় ও সমাজসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের মাধ্যমে তিনি একজন জননন্দিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তিন দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত।
মিল্লাত ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জামালপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
প্রয়াত নবাব আলী প্রধান ও প্রয়াত রোকেয়া বেগমের একমাত্র সন্তান রশিদু্জ্জামান মিল্লাত ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক (বিবিএ) ডিগ্রি অর্জনের পর ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পাশাপাশি নেতৃত্বের দক্ষতা আরও বিকশিত করতে তিনি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটউট ও সেন্টার ফর গর্ভনেন্স স্ট্যাডিজের আয়োজিত নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।
রশিদুজ্জামান মিল্লাতের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৮৬ সালে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও পরে মহাসচিব আবদুস সালাম তালুকদারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে। এর আগে তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটিতে সম্পৃক্ত থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সেখানে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন। দলের প্রতি নিবেদিত থেকে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং সাংগঠনিক তৎপরতা ১৯৯১ সালে বিএনপির মূল রাজনীতিতে তাকে স্থান করে দেয়।
রাজনীতির পাশাপাশি রশিদু্জ্জামান মিল্লাত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে আসছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ও তার সহধর্মিণী সাবিরা সুরাইয়া তিন সন্তানের জনক ও জননী। জনসেবা, ব্যবসায়িক নেতৃত্ব ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতি তার কর্তব্যনিষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে, যা তাকে এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
কেকে/এমএ