রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের দখলদারিত্ব মেনে নেওয়া হবে না।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর-১০ নম্বরে চলমান উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম নিয়মিতভাবেই চলবে। তার অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের সময় দখলদারদের একটি অংশের ইন্ধনে সিটি করপোরেশনের পরিবহনকর্মী, সাংবাদিক এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন।
তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা হামলাকারীদের প্রতিরোধ করলে তারা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখতেই ফুটপাত উদ্ধারের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
ডিএনসিসি প্রশাসকের ভাষ্য, অভিযান চলার একপর্যায়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় একটি ভেকু ও পুলিশের গাড়িও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে একটি মসজিদে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পুলিশের পাশাপাশি ডিএনসিসির পক্ষ থেকেও মামলা করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মিরপুরের বাসিন্দারা ফুটপাত দখলমুক্ত দেখতে চান—সাম্প্রতিক ঘটনায় স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা তারই প্রমাণ। ভবিষ্যতে কেউ কোনো মহলের ইন্ধনে আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী ফুটপাত দখলমুক্ত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব থেকেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তাঁর দাবি, অভিযান চলাকালে কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন এবং ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।
নিজের মিরপুরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, এলাকার পরিস্থিতি তিনি ভালোভাবেই জানেন। ফুটপাত দখল করে মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এরপর হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। একই সময়ে একটি ভেকু ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
কেকে/সাশ