পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বিজয়-২৪ হলে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে দুজনকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও এক বছরের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাতজনকে ১০ হাজার টাকা করে এবং তিনজনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অপর একজনকে অভিভাবকের উপস্থিতিতে মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৪ আগস্ট (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১২ আগস্ট রাতে বিজয়-২৪ হলে দ্বিতীয় সেমিস্টারের (সেশন ২০২৪-২৫) কয়েকজন শিক্ষার্থী নবাগত প্রথম সেমিস্টারের (সেশন ২০২৫-২৬) শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে র্যাগিংয়ে সম্পৃক্ত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ৪৩তম সভায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ইএসএডিএম অনুষদের প্রিয়ম কুমার সাহা ও কৃষি অনুষদের মো. আসিফ জাহানকে র্যাগিংয়ের পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব প্রদান, সংঘটিত করা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এক বছরের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স অনুষদের তৌফিক হোসেন আলিফ, মনুয়িম তাজওয়ার মাহি, সিএসই অনুষদের মো. আশরাফুল হক চৌধুরী, মো. সাকিব হোসেন মজুমদার, মো. মুমিনুল ইসলাম (সাকিব), উৎস বর্মন ও মো. নাহিমকে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স অনুষদের মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, জোবায়ের আহমেদ লিমন ও মো. রাজিব মিয়াকে র্যাগিংয়ে অংশগ্রহণ এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই অনুষদের লক্ষন চন্দ্র রায়কে র্যাগিংয়ে অংশগ্রহণের অভিযোগে অভিভাবকের উপস্থিতিতে প্রভোস্ট কার্যালয়ে মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, জরিমানার পাশাপাশি শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের উপস্থিতিতে প্রভোস্ট কার্যালয়ে মুচলেকা দিতে হবে। নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করলে তাদের এক থেকে তিন সেমিস্টার পর্যন্ত বহিষ্কার করা হতে পারে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে স্থায়ী বহিষ্কারের মতো শাস্তিও দেওয়া হবে।
হল থেকে বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তির মেয়াদে ক্যাম্পাস ও হলে অবস্থান না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অফিস আদেশ জারির ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে নির্ধারিত অর্থদণ্ডের টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেকে/ এমএস