সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: আগামীকাল থেকে শিল্প-কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর      ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চাই, তবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: স্পিকার      ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে মামলার রায় মঙ্গলবার      ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজডুবিতে এখনও নিখোঁজ ১২৯, উদ্ধারে জোর তৎপরতা      আসিফ মাহমুদের নথি দুদকে, যাচাই হবে নিয়োগ-বদলি      আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর      ঢাকা উত্তরে আসিফ ও দক্ষিণে পাটওয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা      
দেশজুড়ে
হাতিয়ায় সিট্রাক-ট্রলার চললেও বন্ধ ফেরি, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণ দেখিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নলচিরা-চেয়ারম্যানঘাট নৌরুটে ফেরি মহানন্দার চলাচল বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তবে একই সময়ে সিট্রাক, স্পিডবোট ও কাঠের ট্রলারসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে নলচিরা-চেয়ারম্যানঘাট নৌরুটে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত চলমান ছিল। তবে ওই সময় নদীর পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল। এ সময় সিট্রাক, স্পিডবোট ও কাঠের ট্রলার চলাচল করলেও ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নদীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ফেরির দায়িত্বে থাকা মাস্টার ও মেরিন কর্মকর্তা ফেরি মহানন্দা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী যাত্রী, মালামাল ও যানবাহন ফেরিতে ওঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং টিকিট বিক্রি করা হয়। পরে বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের যুগ্ম পরিচালক মো. সেলিম ফোনে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলে যাত্রী ও যানবাহন ওঠানো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ফেরিতে ওঠা যাত্রী এবং ঘাটে অপেক্ষমাণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।

আবদুল আহাদ নামে এক যাত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে আমরা জিম্মি ছিলাম, এখনো জিম্মি আছি। একটি সিন্ডিকেট সবসময় আমাদের জিম্মিদশার মধ্যে রাখতে চায়। একই নদীতে, একই ঘাটে দুই ধরনের নিয়ম কেন হবে? দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যদি নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তাহলে একই সময়ে ছোট ছোট ট্রলার, স্পিডবোট ও সিট্রাক কীভাবে চলাচল করছে?’

মাইদুল নামে এক গাড়িচালক বলেন, ‘রাতে হাতিয়া যাওয়ার জন্য গ্যাসবোঝাই গাড়ি নিয়ে চেয়ারম্যানঘাটে অপেক্ষা করছিলাম। ফেরিতে ওঠার জন্য টিকিট কেটে গাড়ি নিয়ে পন্টুনে উঠেছি। পরে জানতে পারি, ফেরি যাবে না। এদিকে পানি বেড়ে যাওয়ায় গাড়িটিও আর নামাতে পারিনি। এভাবে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলার কোনো মানে হয় না।’

ফেরির ইজারা প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম তুরাগ বলেন, ‘তিন নম্বর সতর্ক সংকেত থাকলেও নদীর অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। এ কারণে ট্রলারসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল করছিল। ফেরির মাস্টার ও মেরিন অফিসারও নদীর পরিস্থিতি দেখে ফেরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমি আমার সব স্টাফকে ফোন করে ঘাটে এনেছি। ১৪৫টি যাত্রী টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু পরে একজন কর্মকর্তা ফোন করে ফেরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। একই নদীতে অন্যান্য নৌযান চলাচল করার পরও শুধু ফেরি বন্ধ রাখায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘ফেরি চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য দুই ঘাটে দুজন ম্যানেজার এবং একজন মেরিন অফিসার রয়েছেন। তারা সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। চট্টগ্রামে বসে বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. সেলিম অন্যান্য নৌযান থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে শুধুমাত্র ফেরি বন্ধ করে রাখেন।’

এ বিষয়ে ফেরির দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার মো. ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ফেরি চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক মো. সেলিম বলেন, ‘ফেরি চলাচল বা বন্ধ রাখার দায়িত্ব আমার নয়। এটি বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দেখে থাকেন। তবে ঘাট থেকে যাত্রীরা আমাকে ফোন করে জানান, ফেরি বন্ধ রয়েছে অথচ অন্যান্য নৌযান চলাচল করছে। তখন আমি মেরিন অফিসারকে ফোন করে বলেছি, যদি ফেরি বন্ধ থাকে, তাহলে নিরাপত্তার স্বার্থে অন্যান্য নৌযান চলাচলও বন্ধ রাখতে। কারও সঙ্গে আমার কোনো অর্থনৈতিক লেনদেন হয়নি।’

স্থানীয় যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দাবি, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সতর্কতা থাকলে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। তবে একই সময়ে সিট্রাক, স্পিডবোট ও অন্যান্য নৌযান চলাচল করলে শুধু ফেরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি ও বিভ্রান্তি দুটোই কমবে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close