কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওরে নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর মো. ওয়ালিদ (৫) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ছাতিরচর দক্ষিণপাড়া চর এলাকায় পানিতে ভাসমান অবস্থায় স্থানীয় লোকজন প্রথমে মরদেহটি দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে নিকলী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত ওয়ালিদ নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বাসিন্দা উজ্জ্বল মিয়া ও দিপা দম্পতির ছেলে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেড়াতে এসে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হওয়ায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিকলী হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসে ওয়ালিদ। দুপুরে ১১ জন যাত্রী নিয়ে একটি ছোট টেম্পু ট্রলার ছাতিরচর করস বাগান পর্যটন এলাকায় পৌঁছালে একটি বাঁক নেওয়ার সময় নৌকাটি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে একদিকে কাত হয়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই নৌকায় থাকা সবাই পানিতে পড়ে যান।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজে অংশ নেন। তাদের সহযোগিতায় দেড় বছর বয়সী এক শিশুসহ ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ওয়ালিদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই শুরু হয় শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ওয়ালিদের স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যরা হাওরের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কয়েক দিন ধরে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালালেও শিশুটির সন্ধান মেলেনি।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধারকর্মী ও স্বজনরা হাওরের বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যান। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোক ও হতাশা বাড়তে থাকে। স্থানীয় অনেক মানুষও শিশুটির সন্ধানে স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করেন।
অবশেষে নিখোঁজের চার দিন পর মঙ্গলবার সকালে ছাতিরচর দক্ষিণপাড়া চর এলাকায় পানিতে ভাসতে দেখা যায় ওয়ালিদের মরদেহ। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং পরে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নিখোঁজ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
কেকে/ এমএস