মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় বিএসটিআই অনুমোদন ব্যতীত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি, বাজারজাতকরণ এবং মোড়কে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করার অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ পরিদপ্তর।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় উপজেলা সদরের ভোক্তা অধিকারের বিশেষ অভিযানে এ জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ পরিদপ্তর মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সজল আহমেদ।
জানা যায়, মহম্মদপুর সদরের ওয়ালটন শোরুমের পেছনে গোপন আস্তানায় ‘মায়ের দোয়া এগ্রো ফুড’ নামে প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে তৈরি করা হচ্ছিল বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিম। ‘বেস্ট কোয়ালিটি’ ব্র্যান্ড নামে প্রস্তুতকৃত এসব ভ্যানিলা কাপ, কোণ ও লিটার প্যাক আইসক্রিম স্থানীয় বাজারসহ উপজেলার বাইরের বিভিন্ন দোকানে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। প্যাকেটে মনগড়া ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এসব পণ্য বাজারজাত করা হতো।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পরিচালক মো. সজল আহমেদের নেতৃত্বে সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়। অভিযানে অননুমোদিত উপাদান এবং বিএসটিআই-এর কোনো বৈধ ছাড়পত্র না থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
কারখানার মালিক খায়রুল ইসলাম নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, ‘আমি বিএসটিআই অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছি, তবে এখনো কোনো অনুমোদন পাইনি।’
অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মালিক খায়রুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ অস্বাস্থ্যকর ও অনুমোদনহীন আইসক্রিম ঘটনাস্থলেই নষ্ট করা হয়।
মো. সজল আহমেদ বলেন, ‘অনুমোদনহীন ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ক্ষতিকর খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে মাগুরা জেলা জুড়ে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
কেকে/এআই