পোলট্রি, গবাদিপশু ও মৎস্য খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গাজীপুরের শ্রীপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন প্রান্তিক খামারিরা। খাদ্যের দাম কমানোসহ পোলট্রি খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনা বাজার এলাকায় ফুটওভার ব্রিজের নিচে বাংলাদেশের প্রান্তিক পোলট্রি খামারি ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে খামারিরা বলেন, একটি পোলট্রি খামারের উৎপাদন ব্যয়ের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই খাদ্য বাবদ খরচ হয়। অথচ সম্প্রতি প্রতি বস্তা ফিডের দাম ১০০ থেকে ১১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে দুই হাজার মুরগির একটি খামারে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
অন্যদিকে বাজারে ডিমের দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফলে প্রান্তিক খামারিরা একদিকে বাড়তি খাদ্য ব্যয়, অন্যদিকে কম দামে ডিম বিক্রির কারণে লোকসানে পড়ছেন।
খামারিদের অভিযোগ, ফিড উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেটের কারণে প্রতি কেজি খাদ্যে প্রায় দুই টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। প্রতি বস্তায়ও ১০০ থেকে ১১২ টাকা পর্যন্ত মূল্য বাড়ানো হয়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও ডিম ও মুরগির দাম সে অনুযায়ী না বাড়ায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।
বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান বলেন, “পোলট্রি সেক্টরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে খামারিদের পাশে আছি। এর আগে ডিমের দাম ৫-৬ টাকা কমে গেলে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। তখন প্রতিমন্ত্রী খামারিদের সঙ্গে বৈঠক করে শুল্ক কমিয়ে উৎপাদন খরচ কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দাম কমার পরিবর্তে ফিডের দাম আরও বেড়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কোম্পানির মালিকপক্ষের সিন্ডিকেটের কারণে প্রতি কেজি ফিডে প্রায় দুই টাকা এবং প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ১১২ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
ডা. এমরানুল হক স্বপন বলেন, “পোলট্রি উৎপাদনে একটি খামারের মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ খাদ্যের পেছনে চলে যায়। বর্তমানে প্রতি বস্তা ফিডের দাম ১০০ থেকে ১১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে প্রান্তিক খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।”
মানববন্ধন শেষে খামারিরা খাদ্যের দাম কমানোসহ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে ভুট্টা ও অন্যান্য কাঁচামালের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার বা সমন্বয়, সয়াবিন ও ভুট্টাসহ ফিডের কাঁচামালে সরকারি ভর্তুকি এবং কৃষিখাতের মতো পোলট্রি খাতেও বিদ্যুতের সাশ্রয়ী রেট চালু করা।
এ ছাড়া ফিড মিলগুলোতে বিএসটিআইয়ের নামে হয়রানি বন্ধ এবং পোলট্রি খাতের সংকট নিরসনে সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান খামারিরা।
কেকে/সাশ