গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে গরু চুরির ঘটনা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় প্রতিরাতেই ঘটছে গবাদিপশু চুরির ঘটনা।
স্থানীয়দের দাবি, গত চারদিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৪০টি গরু চুরি হয়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় খামারি, কৃষক ও গবাদিপশুর মালিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা যায়, সংঘবদ্ধ চোরচক্র রাতের অন্ধকারে বসতবাড়ি ও খামারের গোয়ালঘর থেকে গরু চুরি করে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। চুরি ঠেকাতে অনেক গবাদিপশুর মালিক এখন রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। কেউ গোয়ালঘরের নিরাপত্তা জোরদার করেছেন, আবার কেউ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক কয়েক দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্গাপুর ইউনিয়নের রাওনাট এলাকায় আবুল হাজীর বাড়ি থেকে এক রাতেই ৯টি গাভী চুরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। চাঁদপুর ইউনিয়নের বড়পুশিয়া গ্রাম থেকে বাছুরসহ লাল রঙের দুটি গাভী চুরি হয়েছে।
উপজেলার টোক ইউনিয়নের পাকুরদিয়া গ্রামের গরুর মালিক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমার প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের দুটি গরু চুরি হয়েছে। রাতের মধ্যে গোয়ালঘর থেকে গরু নিয়ে গেছে চোরেরা। এতে আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।’
অন্যদিকে কাপাসিয়া ইউনিয়নের পাবুর গ্রামের মাসুদ মিয়ার প্রায় ছয় লাখ টাকা মূল্যের চারটি গরু চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে চারটি গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। গরুগুলো ছিল পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও আয়ের অন্যতম উৎস।’
এ ছাড়া উপজেলার রাওনাট গ্রামসহ আরও কয়েকটি এলাকায় গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে সব ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে চুরি হওয়া গবাদিপশুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরির ঘটনা এতটাই বেড়েছে যে সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় আতঙ্ক। আগে বিচ্ছিন্নভাবে চুরির ঘটনা ঘটলেও এখন প্রায় প্রতিরাতেই উপজেলার কোনো না কোনো এলাকায় গবাদিপশু চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
তাদের দাবি, দ্রুত সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি রাতের পুলিশি টহল জোরদার, সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও সম্ভাব্য চোরাচালান পথগুলোতে চেকপোস্ট বসানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ নাছির আহম্মদ বলেন, ‘গরু চুরি রোধে পুলিশের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণে পাহারার ব্যবস্থা করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও হাটবাজার এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হবে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিদিন পাহারার ব্যবস্থা করা হবে।’
স্থানীয়রা অবিলম্বে গরু চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, চুরি যাওয়া গবাদিপশু উদ্ধারে কার্যকর অভিযান এবং উপজেলার সর্বত্র রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কেকে/এআই